এখন তাহলে এরা কাদের সাথে ব্যবসা করছিল? এখন আমাদের হাতে খুব জোরদার প্রমাণ রয়েছে যে এরা অন্ততঃ এইসব জায়গার সঙ্গে বাণিজ্য করতো, কারণ প্রচুর সীলমোহর এবং হরপ্পার সামগ্রী এইসব বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একটি হ’ল ওমান, ইরানের সর্বত্র হরপ্পার অসংখ্য প্রত্নসামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, মূল ভূখণ্ডের আরও ভেতরে বাহরিনে, ইরানে প্রণালীগুলির অপর পারে, পূর্ব ইরানে একটি সদ্য আবিষ্কৃত সভ্যতা রয়েছে যার নাম জিরফ্‌ট। এরা নিজেদের কী নামে ডাকত তা আমাদের জানা নেই তবে এলাকাটির নাম জিরফ্‌ট তাই একে জিরফ্‌ট সভ্যতা বলা হয়েছে। যেখানে এগুলির অবস্থান, বিশেষ ক’রে যখনস্থানগুলি ইরানের একেবারে পূর্ব প্রান্তে এবং বালোচিস্তানেখুঁজে পাওয়া অনেকগুলি হরপ্পা-কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত, তাতে এমনটা হওয়া খুবই সম্ভব যে কোনো না কোনো সাংস্কৃতিক যোগসূত্র থাকতেই পারে, শুধু সাংস্কৃতিক সূত্র কেন, হয়তো তারা সেই একই জনগোষ্ঠী যারাসেই অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতো, যাকে আমি ইন্দো-ইরানীয় নিরবচ্ছিন্ন গতিপথ বলি, এবং আরও দূরে মেসোপটেমিয়ার দিকে, সুমেরীয় জনবসতি এলাকা অব্দিও এইরকম আরও সব জনবসতি ছিল আর এগুলির মধ্যে অনেক জায়গাতেই হরপ্পার সীলমোহর এবং অন্য নানা প্রত্নসামগ্রী পাওয়া গেছে।

এমনকী মেলুহা নামের একটি জনগোষ্ঠীর নথিপত্রের হদিশও পাওয়া গেছে, সুমেরীয়রা যাদের সঙ্গে বাণিজ্য করত বলে দাবি করে গেছে এবং দেখেশুনে মনে হয় এরা ভারতীয় ছিল। এমন অনেকগুলি সঙ্কেত পাওয়া গেছে যে এরা হরপ্পা সভ্যতার বাসিন্দা ছিল এবং এমনকী ওখানকার বাসিন্দা হরপ্পার নাগরিকদের বসতিগুলির গল্পও শুনতে পাওয়া যায়। কাজেই মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী ভারতীয়দের ব্যবসা-বাণিজ্য আজকের নয়, আমরা বহু যুগ ধরেই মধ্যপ্রাচ্যেগিয়েছি এবং বসত গ’ড়ে থেকেছি। তো এইভাবেই একরকম ভালোয় ভালোয় দিন গড়িয়ে চলছিল, যতদিন না খুব খারাপ কিছুএকটা ঘটে থাকে।