তো এইটা হলো সেই যুক্তি যেইটা আবেদনকারীদের পক্ষ্য থেকে তুলে ধরা হয়েছে যারা প্রতিরোধ করছেন আইন টাকে, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সেই আইন টাকে সাংবিধানিক বৈধতার দিক থেকে দেখে|এটা বলছে, “মূল যুক্তি যেটা আবেদনকারীদের পক্ষ্য থেকে প্রদান করা হচ্ছে সেটা হলো যে সাংবিধানিক আর্টিকেল ২৫ এবং ২৬ পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় সকল নাগরিকদের তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিষয়ের সব কিছু পরিচালনা করার এবং স্বাধীন ভাবে নিজেদের ধর্ম পালন এবং প্রচার করার| হিন্দুরা জনসংখায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ|হিন্দু ধর্ম দেশের প্রধান ধর্ম, সমান ভাবে মুসলমান, খ্রীষ্টান এবং পারসী নাগরিকরাও একই সাংবিধানিক অধিকার পাচ্ছেন আর্টিকেল ২৫ এবং ২৬এর দ্বারা, কোনো ভাবে না ছুয়ে কোনো প্রশাসনিক পধ্যতি  তাদের দাতব্য সংস্থা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বা যে কোনো প্রতিষ্ঠানে যেটা কোনো মুসলমান, বা খ্রীষ্টান, বা পারসীর দ্বারা চালিত বা পরিচালিত, যেখানে হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে যেটা সাংবিধানিক আর্টিকেল ১৪ এবং ১৫র বিরুদ্ধে যায়ে যেখানে সমন্বয়ে নিয়ে নিয়ম আছে – এই যুক্তিটি দেওয়া হয়েছিল|

এটাও দাবি করা হয়ে যে যখন কোনো গোষ্ঠীকে, যারা প্রধান ধর্মের অংশীদার, আর্টিকেল ২৬এর দ্বারা সুরক্ষা দেওয়া হয়ে| প্রধান ধর্ম গুলোও সমান ভাবে আর্টিকেল ২৬এর দ্বারা সুরক্ষা পাবার অধিকারের প্রাপ্য, যেমন বৈষ্ণবরাও সাংবিধানিক সুরক্ষা পাবার প্রাপ্য, হিন্দুরা একটা সম্পূর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে একই সুরক্ষা পাবার অধিকারী কারণ বৈষ্ণবরা হিন্দুদেরই একটা অংশ| প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলো তাদের সেগুলোর পরিচালনায়ে সেহেতু আইনত ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা কারণ সেটা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের বিরুদ্বে যাওয়া হবে| এই যুক্তিটাই, মূল রূপে, দেওয়া হয়ে|

দেখা যাক একবার সুপ্রিম কোর্টের কি বক্তব্য, এবং সেইটা আপনাকে মনে করাবে কিছু যুক্তির কথা যেগুলো দেওয়া হয়ে সংবিধানের অন্য কিছু অংশ নিয়ে| প্রথম প্রশ্ন হলো যে এটা কি আদপে দরকার আছে যে আইন-সভা এইরম কোনো আইন বানাক যেটা সকল ধর্মীয় এবং দাতব্য বা জনসংথার ওপর লাঘু হবে যেটার স্থাপনা বা পরিচালনা করে জনগণ যারা সব রকম ধর্মই মানে, এইবার আসছে ধর্মনিরপক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গি|ভারতের মতো একটা বহু সম্প্রদায়ের দেশে যেখানে মানুষের আস্থা আছে তাদের নিজেদের ধর্মে, বিশ্বাসে, মতবাদে যেগুলো নানান ধর্মের বা তাদের বিভাগের অংশ, দেশের সংবিধানের প্রতিষ্ঠাতারা এ হেন নানা অসুবিধের সম্মুখীন হন ভারতের নানা জনগোষ্ঠী কে ঐক্য করতে, যারা নানা আলাদা ধর্ম, জাতী, ইত্যাদির মতবাদ মানেন|সংবিধানের নির্দেশক নীতি নিজের থেকেই ঠাহর করে বৈচিত্রতা এবং প্রচেষ্টা করে একরূপতা আনতে নানান মতবাদের লোকেদের মধ্যে|একটা সমান মাপকাঠির আইন যদিওবা হয় পরম আখান্ক্ষিত, কিনতু সেটা লাঘু করলে এক বারে হয়েত দেশের ঐক্যতার বিপরীত হবে|

একটা গণতন্ত্র যেখানে সবকিছু আইনের দ্বারা পরিচালিত হয়, সেখানে ক্রমান্বয়ে প্রগতিশীল পরিবর্তন আনা উচিত, আপনি দেখছেন কিছু ভাবনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হছে অন্যদের তুলনায়ে| আইন বানানো বা আইনে সংশোধন আনা একটা ধীর প্রতিক্রিয়া তে হয় এবং আইনসভা প্রয়োজন যেখানে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ, সেখানে প্রতিকার করবার প্রচেষ্টা করে| তো, বিচারপতিরা মনে করেন যে প্রতিকার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হিন্দু প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে, আপনি দেখছেন, এটাই হলো যুক্তি টা, এই ভাবেই আমরা ব্যাখ্যা করি বহুপাক্ষিকতা কে, এই ভাবেই আমরা ব্যাখ্যা করি ধর্মনিরপেক্ষতকা কে, এই ভাবেই আমরা বাস্তবায়ন করি সাংবিধানিক আদেশ এবং মানগুলি কে এই দেশে|

আসল কথা হলো যেটা আমাদের বুঝতে হবে যে, এই প্রশ্নটা যেটা ১৯৬৬ সালে তোলা হয়েছিল সেটা আজো বৈধ আছে ২০১৬তে, এবং এই প্রশ্নটা করা আমাদের অধিকার, যে আপনি কি বলছেন যে গত ৫০ বছরে অন্যান্য সমাজ ও সম্প্রদায়েরা কি এই ধরণের আইনের এক্তিয়ারভুক্ত হয়েনি, ৫০ বছর কেটে গেছে, এটা ১৯৬৬র ঘটনা, এখন আমরা ২০১৬তে| বুঝতে পারা যায় যে ১৯৬৬তে স্বাধীনতার ১৯ বছর পরে আপনি বলছেন যে আপনার মনে হয়ে সুধু হিন্দু প্রতিষ্ঠানগুলির সবচেয়ে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন, কিন্তু সেই রায়ের ৫০ বছর পরেও কি আপনি বলবেন যে অবস্থা এখনো এইরম যে খালি সুধু হিন্দুদেরই এটা দরকার |