আমার আজকের বক্তৃতার বিষয় হ’ল ভারতের সমুদ্রযাত্রার ইতিহাস এবং যে কারণে এই বিষয়টি আপনাদের কাছে চিত্তাকর্ষক হবে ব’লে আমার মনে হয় তা হচ্ছে –ইতিহাসে সবসময়েই ভারতবর্ষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সমুদ্রবিজয়ী দেশগুলির অন্যতম হয়ে থেকেছে এবং দুর্ভাগ্যবশতঃআমাদের পাঠ্যবইয়ে আমরা যে ইতিহাস পড়েছি তার বেশিরভাগটাই খুব ক’রে মহাদেশীয় ইতিহাস-সংক্রান্ত।ফলে আপনি যদি বিশেষজ্ঞ না হয়ে থাকেন তাহলে এমনটা মনে করার জন্য আপনাকে ক্ষমা করা যেতে পারে যে ভারতবর্ষের ইতিহাস আসলে কয়েকটি রাজবংশের ইতিহাস যারা পাটলিপুত্র শাসন ক’রে এসেছে এবং তারপর আরও কয়েকটি রাজবংশ যারা আজকের যুগ অব্দি দিল্লী শাসন ক’রেএসেছে।

ফলে আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনাদের অন্যরকম একটি ইতিহাসের কিছুটা স্বাদ দেবার চেষ্টা করা এবং এটি স্রেফকোনো তাত্ত্বিক এবং আবেগতাড়িত ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ নয় কারণ আমরা আমাদের দুনিয়ার ব্যাপারে যেভাবে ভাবি তার উপর এর একটি সত্যিকারের প্রভাব পড়বার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আপনি যদি ভারতীয় ইতিহাসকে একটি দিল্লি-কেন্দ্রিক, মহাদেশীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেন তাহলে আপনার ধারণা হবে যে শুধুমাত্র পাকিস্তান এবং চীন আমাদের প্রতিবেশী। কিন্তু যদি আপনি সমুদ্রযাত্রার দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে একদিকে ইন্দনেশিয়া আমাদের প্রতিবেশী, আর অন্যদিকে ওমান।আমি যে শুধুমাত্র শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপকেই গণনা করছি তাই নয়, বরং আরও দূরে, সম্ভবতঃ ভিয়েতনামকেও গণনা করছি কারণ আমাদের ইতিহাসের পরিবেশতন্ত্রটি এরকমই এবং আমি আপনাদের তারই স্বাদ দিতে চলেছি।

আমার হাতে খুব বেশি সময় নেই, আমি আপনাদের একটা খুব লম্বা একটানা বক্তৃতা দিয়ে ক্লান্ত করতে চাই না, তাই আমি যেভাবে এটা করব তা হ’ল ইচ্ছে ক’রে ঘটনা ও বিষয় বেছে বেছে বলা, যাতে গল্পটা চলতে থাকে, তবে আশা করছি যে পুরো বিষয়টার কিছুটা নির্যাস আমি আপনাদের দিতে পারব। ঘটনাচক্রে আমি আজ যে বিষয়ে বলছি, সেই বিষয়ের কিছুটা ধারকরছি আমার লেখা একটি বই থেকে, যেটি এ-বছরের শেষদিকে বেরোতে চলেছে, তার নাম “এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়াজ জিওগ্রাফি”। এর একটা মূল শিরোনাম আছে বটে, তবে সেটা আমরা এখনও ঠিক ক’রে উঠতে পারিনি, এটি আসলে ভারতবর্ষের ভূগোলের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

Featured Image – Wikipedia.