২০০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ নাগাদ সময়ে, এবং এ ব্যাপারে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে, যে ২০০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ বা কাছাকাছি সময়েসারা পৃথিবী জুড়ে একটি বড়সড় জলবায়ু পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল এবং এটি যে শুধু পোলেন রেকর্ডঅথবা অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণেইকেবল পরিষ্কার দেখা যায় তাই নয়, একটি আকাডিয়ান নথিতেও দেখা যায় যা বলে যে মোটামুটি ওই সময়ে অত্যন্ত তীব্র খরা দেখা দিয়েছিল, এই সময়েই সরস্বতী নদী অনেকটাই শুকিয়ে এসেছিল, কিছুদিনের মধ্যে এটি একেবারে গায়েব হয়ে যায় এবং এই অঞ্চল এবং এর কাছাকাছি এলাকাগুলি থেকে একটি বড় সংখ্যক জনবসতি স্রেফ পরিত্যক্ত হ’তে শুরু করে।

ঘটনাচক্রে একই সময় নাগাদ মিশরের পুরনো রাজতন্ত্রও ভেঙে পড়ে এবং আমরা হঠাৎ করেই এই সময়ের এবং এইসব অঞ্চলের হরপ্পার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সংখ্যায় একটা ঘাটতি দেখতে পাই। এটা পরিষ্কার যে সেখানকার বাণিজ্যের ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়ছিল। এখানে ব’লে রাখি যে আমরা হরপ্পা সভ্যতার কোনো অঞ্চলেই মধ্যপ্রাচ্য কিংবা মধ্য এশিয়ারও কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাইনি। তাই এটা খুবই রহস্যজনক কারণ যদিও হরপ্পার লোকেরা পরিষ্কারভাবেই মানুষসহ অন্যান্য জিনিস রপ্তানি করত, তবু এটা একেবারেই পরিষ্কার নয় যে তারা ঠিক কি আমদানি করত।

যাই হোক, হরপ্পার এই শহরগুলির পতনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দক্ষিণদিকে মানুষের পরিযানের স্পষ্ট নিদর্শন পেয়েছি, নর্মদার দিক থেকেও গাঙ্গেয় উপকূলের সমতল অঞ্চলের দিকে পরিযান ঘটেছিল। এর কিছু অঞ্চলে, এমনকী বেশ কিছু অঞ্চলে পরবর্তী যুগের হরপ্পা সভ্যতা অব্দি যাকে সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্য বলে তা লক্ষ্য করা যায় এবং তারপরে তা গাঙ্গেয় সভ্যতার সাথে মিশে যায়। কিন্তু আমি তার মধ্যে যাবো না কারণ আমার আগ্রহ সমুদ্রযাত্রার ইতিহাস নিয়ে।

এবার হ’ল কি – এবং এখানেই ব্যাপারটা আরো চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে– কারণ এতক্ষণ আমি যা বললাম তার বেশিরভাগের সঙ্গেই আপনারা সম্ভবতঃ ভালরকম পরিচিত। এবার যেটা ঘটে তা হ’ল, হঠাৎ ক’রে মধ্য এবং দক্ষিণ ভারতে প্রাণের সঞ্চার হয়। এখন এই অব্দি যে কোনো কারণেই হোক আমরা এমন প্রমাণ পেয়ে এসেছি যে দক্ষিণ ভারতে ব্রোঞ্জ যুগ ব’লে কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন, হরপ্পা এবং অন্যান্য যেসব সভ্যতার কথা আমি বললাম সেগুলি সব ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা এবং কোনো কারণবশতঃ দক্ষিণ ভারতে ব্রোঞ্জ যুগ সেভাবে ছিল না এবং যে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া চলে সেটি হ’ল যে যখন হরপ্পা সভ্যতা ভেঙে পড়ছিল তখন হঠাৎ ক’রে দক্ষিণ ভারতে লৌহযুগ শুরু হয়, সেখানে যেন ব্রোঞ্জ যুগকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি লৌহযুগে প্রবেশ করা হয়েছে এবং এটা খুবই আগ্রহজনক কারণ পুরনো ধ্যানধারণা অনুযায়ী, এইসব লোহার তৈরি জিনিসপত্র এবং লৌহযুগ ভারতে এসেছে আর্যদের হাত ধ’রে যারা নাকি মধ্য এশিয়া থেকে ভারত আক্রমণ করতে প্রবেশ করেছিল এবং দেখা যাচ্ছে যে লোহার প্রাচীনতম নিদর্শন যেখানে মিলেছে সে জায়গাটি উত্তর ভারতে তো নেইই, বরং রয়েছে বর্তমান হায়দ্রাবাদ ও তার কাছাকাছি অঞ্চলে। এমনকী মাত্র এক বছর আগে সারা পৃথিবীর প্রাচীনতম লৌহ নিদর্শনগুলির কিছু অংশ পাওয়া গেছে হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভেতরে এবং আসলে এই হচ্ছে ঘটনা।