আরো অন্যান্য দেশীয় প্রচেষ্টার উদাহরণও রয়েছে এবং এদের মধ্যে যেগুলি সবচেয়ে সফল হয়েছিল তাদের একটির কথা বর্তমানে সবাই প্রায় ভুলেই গেছে, ইনি হলেন আব্বাক্কা নামের একজন যোদ্ধা রানী; তিনি, তাঁর কন্যা এবং নাতনী প্রায় আশি বছর ধ’রে পর্তুগীজদের প্রতিহত করেছিলেন তাঁদের রাজধানী উল্লাল নামক একটি স্থান থেকে, যে জায়গাটি ম্যাঙ্গালোরের খুবই কাছে অবস্থিত। এবং এই যোদ্ধা রানী, তিনি একজন রানী ছিলেন, অবশ্যই মনে রাখবেন যে এই উপকূল বরাবর একটি দৃঢ় মাতৃকুলপ্রধান এবং কখনো কখনো মাতৃতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং উপকূলের জাহাজগুলি ব্যবহার ক’রে তিনি পর্তুগীজ জাহাজগুলিতে প্রায় ফাঁদে ফেলতেন, কখনো সখনো সেগুলি ডুবিয়ে ছাড়তেন, আবার অনেক সময় পর্তুগীজদের পরাজিত ক’রে বন্দীও করতেন, প্রথম রানী আব্বাক্কা নিজে বন্দী হয়েছিলেন এবং তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল তবে তাঁর কন্যা এবং পরে তাঁর নাতনী যুদ্ধটি জিইয়ে রাখেন।

এখন ঐ উপকূলরেখা বরাবর স্থানগুলিতে আব্বাক্কার বিষয়ে মুখে মুখে অনেক ইতিহাস ও গল্প রয়েছে, এমনকী আব্বাক্কার নামে নৃত্যনাট্য ও যক্ষগণ এবং অন্যান্য কলাও প্রদর্শন করা হয়ে থাকে, তবে তাঁর বিষয়ে প্রায় কোনো লিখিত ইতিহাস নেই, ইংরিজিতে তো নয়ই, তবে আমার মনে হয় টুলু ভাষায় কিছু কিছু রয়েছে, যা ওখানকার একটি স্থানীয় ভাষা, তবে এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে আমরা ভারতীয়েরা এইসব প্রতিরোধের ইতিহাস মনে রাখি না, বরং আমরা বেশি ক’রে যেগুলো জানি সেগুলি হচ্ছে এই ব্যাপারে ইউরোপীয়দের জবানিতে বলা কাহিনীগুলি – ঐ দিকটার ব্যাপারে আসলে আমরা অনেক কিছুই জানি, অবাক করার মত বিষয় হচ্ছে যে ইউরোপীয়রা আবার আব্বাক্কার কথা কোথাও কোথাও উল্লেখ ক’রে গেছে। তবে আমরা এই ব্যাপারে খুব কমই ব’লে থাকি। তাই আমার মনে হয় যে এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমি যা যা করতে চাই তার মধ্যে একটা হচ্ছে আমাদের সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসের অন্ততঃ কিছু অংশ লিপিবদ্ধ করা যাতে কয়েকটি ঘটনার ইতিহাস যেন জনসমক্ষে তুলে ধরা যায়।