এখন, ইতিহাস তো চলমান এবং একটি অতি পরিচিত ঘটনা ঘটেছিল, সেটি হ’ল চোলদের উত্থান এবং একাদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চোলদের মহা-অভিযান। এখন প্রশ্ন হ’ল, চোলেরা কেন একাদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিযান চালিয়েছিলেন? আমরা ঠিক নিশ্চিতভাবে জানি না তবে অনেকগুলি কারণের মধ্যে একটি কারণ রয়েছে, এবং সেটি খুবই জোরদার কারণ যেহেতু এর সপক্ষে বেশ কিছু পরোক্ষ প্রমাণও রয়েছে, সেটি হ’ল খুব সম্ভবতঃ চোল এবং চীনের সং সাম্রাজ্যের মধ্যে প্রচুর ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। সত্যিই সেই সময়কার অসংখ্য হিন্দু মন্দিরের ভগ্নাবশেষ চীনের উপকূল বরাবর পাওয়া যায় এবং মনে হয় শ্রীবিজয়রা কোনোভাবে এদের বাণিজ্যে বাধা দান করছিল এবং খুব সম্ভবতঃ প্রচুর কর আদায় করবার চেষ্টায় ছিল। এখন, বেশি কর চেয়ে বসায় সমস্ত ভারতীয়দের মতোই তারাও খেপে গিয়েছিলেন। এ তো নিত্যদিন ভারতের সড়কে দেখতে পাওয়া যায়।

ফলে খুব স্বাভাবিক কারণেই তাঁরা নড়েচড়ে বসেন এবং ঠিক করেন যে কিছু একটা করবেন, তাই তাঁরা তাঁদের সমস্ত সহযোগীদের নাগাপট্টিনমে ডেকে পাঠান, জাহাজে চেপে গন্তব্যে পৌঁছে যান এবং শত্রুদের ভালোমত পর্যুদস্ত ক’রে আসেন এবং কাদারামে এটা পরিষ্কার বলা আছে যে এককালে কাদারামের এক রাজা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন, তাঁর হস্তীবাহিনী এবং তাঁর অন্য সমস্ত ঐশ্বর্য লুটে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এতে খুব একটা যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল তা বোধহয় নয়, কারণ এর কিছু পরেই চোলেরা শ্রীবিজয়দের সাথে এবং সেখানকার অন্যান্য রাজাদের সাথে মিলে একটি বেশ জোরদার জোট গড়ে তুলেছিলেন এবং এইরকম একটি বেশ আকর্ষণীয় ব্যাপার সেখানে ঘটছিল।

ঐ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি বোঝবার চেষ্টা প্রসঙ্গে দেখা যায় যে আমরা শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের দক্ষিণতম প্রান্তের ইতিহাসের কথা ভাবতে বসলে সিংহলী-তামিলদের সংঘর্ষের কথা ভাবি। এ ব্যাপারে আমরা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ি কারণ অতি সম্প্রতি উত্তর শ্রীলঙ্কায় অনেকগুলি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ঘটনা ঘটে গেছে। এই সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বাদ দিলে, ইতিহাসের প্রায় সমস্ত সময়টা জুড়ে যা ঘটে চলেছিল তা হ’ল মাদুরাইয়ের পাণ্ড্যরা এবং শ্রীলঙ্কার সিংহলীরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন চোলেদের বিরুদ্ধে একজোট হ’তে – যে চোলেরা কাবেরী উপত্যকার উত্তরভাগে অবস্থান করতেন এবং চোলেদের জোটসঙ্গী সম্ভবতঃ ছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জাতিগুলি। ফলে এটাই ঐ সময়কার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা ছিল। চোল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোটের বিরুদ্ধে পাণ্ড্য-সিংহল জোট এবং আপনি দেখতেই পাবেন যে এর মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটেছিল, তবে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এইরকম অত্যন্ত জটিল কয়েকটি জোটের মাধ্যমে চালিত হ’ত।