তুর্কী আক্রমণের পরে কেন ভারতীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল

তবে একাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, ঠিক ক’রে বলতে গেলে (দ্বাদশ শতাব্দী) ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে শুরু হয়ে এই গোটা কাঠামোটা হঠাৎ ক’রে ভেঙে পড়ে, ভারতে অবশ্যই তুর্কী আক্রমণ ঘটেছিল এবং সেই কারণেই গোটা ব্যবস্থাটা নষ্ট হয়ে যায়। এটা শুধু রাজনৈতিক অধিকারের ব্যাপার নয়, বরং আরেকটি ব্যাপার ঘটেছিল যা হ’ল মন্দিরগুলি ধ্বংস করা, তাঁর ফলে এই গোটা কাঠামোটার অর্থযোগান-ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ে।

তাই আমি বহু বছর ধ’রে যা ভেবে পাইনি তা হ’ল কেন তুর্কী আক্রমণের পরে ভারতীয় এবং বিশেষ ক’রে হিন্দু বণিকদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছিল যারা তার আগে অব্দি প্রভূত পরিমাণে বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন। ঐতিহাসিকেরা যে ব্যাখ্যা দেন তা হ’ল – আরে, কেন আবার? বর্ণব্যবস্থার কড়াকড়ির জন্যে এবং জানোই তো যে এই ব্রাহ্মণগুলো সব শয়তানের দল, কিছুতেই কালাপানি পেরিয়ে সমুদ্রযাত্রা করতে দিত না! অথচ এই ব্যাখ্যার বিন্দুমাত্র কোনো ভিত্তিই নেই, তার সহজ কারণ হচ্ছে উচ্চবর্ণের লোকেরাই এই বাণিজ্যের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হ’ত। বৈশ্য বণিকেরা তো ছিলেনই, তাছাড়াও ছিলেন রাজন্যবর্গ, ক্ষত্রিয়েরা – যাঁরা বিভিন্ন সময়ে খাজনার মাধ্যমে বিশেষভাবে লাভবান হতেন, তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতেন অবশ্যই ব্রাহ্মণেরা কারণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজদরবারগুলিতে তাঁদের ভীষণরকম কদর ছিল এবং তাঁদের অনেকেই নিজেরা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সেখানে যেতেন।

আমি আগেই বলেছি যে প্রথম যাঁরা সমুদ্র অভিযানে গিয়েছিলেন তাঁদের অন্যতম হলেন কৌন্ডিণ্য, যিনি নিজে একজন ব্রাহ্মণ ছিলেন। ফলে তাঁরা যে হঠাৎ ক’রে অভিযান-বাণিজ্য এসব বন্ধ করবেন এমন কোনো কারণই ছিল না এবং আমি মনে করি যে এই কাঠামোটা ভেঙে পড়ার একটি অন্যতম বড় কারণ হ’ল অর্থের যোগান দেবার ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়া, যে ব্যবস্থা এই পুরো কাঠামোটিকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল।

You may also like...

Leave a Reply

%d bloggers like this: