এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীসের ভিত্তিতে এবং কোন্‌ কোন্‌ অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে এতরকম বাণিজ্যের আদানপ্রদান চালানো সম্ভব হয়েছিল? এখন আপনার মনে হতেই পারে যে অত্যন্ত সাহসী বণিক এবং ব্যবসায়ীরা নিজেদের ধন এবং জীবন বাজি রেখে এইসব মহান অভিযান চালিয়ে বাণিজ্য করতেন। আসলে ব্যাপারটা তার চাইতে অনেক বেশি জটিল ছিল। এইসব অভিযানের অনেকগুলিই ব্যক্তিগত উদ্যোগের কারণে নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক সঙ্ঘের কারণে সম্ভব হয়েছিল। এগুলি প্রায় কোম্পানির মতোই ছিল, এবং এদের মধ্যে অনেকগুলি ছিল জাতিভিত্তিক কোম্পানি। তবে এমন অনেক কোম্পানিও ছিল যেগুলি জাতিভিত্তিক নয়, এদের কারো কারো অদ্ভুত নাম দেওয়া হ’ত যেমন পাঁচশো ইত্যাদি, এবং শোনা যায় যে এরা খুব সম্ভবতঃ বহুজাতিক কোম্পানি ছিল, এবং এদের মধ্যে অনেকগুলি বহু শতক যাবৎ টিঁকে ছিল, যারা আমদানি রপ্তানির মাধ্যমে বাণিজ্য চালাত। এদের মধ্যে কেউ কেউ ভাড়াটে সৈন্য রাখত যারা সুরক্ষার কাজ করবে এবং তাদের বানিজ্যযাত্রার পথটিকে সুগম রাখবে। এরা খুবই প্রভাবশালী ছিল, এবং দক্ষিণ ভারতে অনেকগুলি এরকম সংস্থা ছিল, এবং তার চেয়েও যা বেশি কৌতূহলজনক ব্যাপার তা হ’ল, এদের বেশিরভাগ অর্থই আসত মন্দিরগুলি থেকে।

এখন, সাধারণ ধারণা হ’ল যে মন্দিরগুলির কাছে প্রচুর অর্থ থাকত কারণ সমস্ত রাজারা এইসব মন্দিরে প্রচুর অর্থ দান করতেন, তবে তা ছিল শুধুমাত্র মূলধনটুকুই, আসলে এইসব মন্দিরের প্রচুর সোনাদানা থাকবার অনেকগুলি কারণের মধ্যে একটি হ’ল এই মন্দিরগুলি প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্কের মত কাজ করত, এবং আমাদের কাছে প্রচুর তাম্রপত্র রয়েছে, অনেকগুলি তাম্রপত্র যেগুলি আসলে বিভিন্ন বণিকসংঘের মধ্যে চুক্তির অবশেষ। তো এরকম অনেক বণিকসংঘ ছিল, কারিগরসংঘ ছিল এবং এদের ভেতর অনেক চুক্তি হ’ত। তাছাড়াও বণিকসংঘ এবং তাদের অর্থ যোগানকারীদের মধ্যে চুক্তিপত্র ছিল, এই অর্থ যোগানকারী হ’ল মন্দিরগুলি এবং এই হচ্ছে সেই কাঠামো যার মধ্যে এইসব কর্মকাণ্ডের বেশিরভাগটা চলত।