সবেমাত্র ২০০২ সালে আদালত, অর্থাৎ মহামান্য এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই বিতর্কিত স্থানটিতে খননকার্য চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এখন এটি তো প্রথম খননকার্য নয়, এর আগেকার উৎখননটি খুবই একপেশে ছিল। এতৎসত্ত্বেও ১৯৭০-এর দশকেই বি. বি. লাল, ভারতীয় পুরাতত্ত্বের ডীন, মূল মন্দিরের ভিত্তিভূমি, তলার কাঠামোর বেশ কিছু অংশ আবিষ্কার ক’রে ফেলেছিলেন। তাই আসলে আমরা আগেভাগেই জানি যে ওরা ওখানে কী পেতে চলেছে। তবে এইবারে ওখানে খুব পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে খননকার্য চালানো হয়েছিল এবং এই বেলা কোনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না।

খুব স্বাভাবিকভাবেই মন্দিরের ভিত্তিটি পাওয়া গিয়েছে। তাই আসলে আমাদের হাতে আগে থেকেই যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যে ওখানে একটা মন্দির ছিল। তবে এখন এটি অস্বীকার করবার আর কোনো উপায় রইল না। ফলে এখন এটা পুরোপুরি সরকারিভাবে স্বীকৃত যে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ইতিহাসবিদেরা এই তর্কে গো-হারা হেরে গেছেন। এঁরা হেরে গেছেন, সেই কারণেই এই মামলা চলাকালীন যখন এঁদের ডাকা হয়েছিল, তখন তাঁদের সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছিল। তবে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এঁদের চূড়ান্ত পতন ঘটলো। তাঁরা স্বীকার করতে বাধ্য হলেন, “তবে আমি তো পুরাতত্ত্ববিদ নই, আমি এই ব্যাপারগুলো জানি না। আসলে আমি কখনো অযোধ্যায় যাইনি, এটা আমার গবেষণার বিষয়ই নয়।” এবং এইভাবে এঁদের একের পর এক পতন ঘটতে লাগল। এই বিষয়ে বিশদে জানতে শ্রীমতী মীনাক্ষী জৈনের লেখা বইটি পড়ুন। তবে সংবাদমাধ্যম ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী পণ্ডিতদের বিব্রত হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিল। আপনি যদি বিশেষ ক’রে এই মামলাটির ব্যাপারে খোঁজখবর না নিয়ে থাকেন তাহলে এগুলো আপনার জানবার কথা নয়।

একইভাবে সমস্ত পশ্চিমী পণ্ডিতেরাও এমন ভাব করলেন যেন কিছুই ঘটেনি। যদি আপনি বিশেষ ক’রে এই মামলাটির বিষয়ে খোঁজখবর না নিয়ে থাকেন এবং আপনার বয়স যদি এমন হয় যে অন্ততঃ ধ্বংসের সময় আপনি বর্তমান ছিলেন তাহলে আপনি এমনটাই বিশ্বাস করবেন যে এই মন্দিরটি হ’ল কদর্য, বিদ্বেষপূর্ণ হিন্দু মৌলবাদীদের মনগড়া বস্তু, কারণ সেই সময় সকলে এমনটাই বলেছিল, বিশেষ ক’রে পণ্ডিতেরা তাই বলেছিলেন। সেই সময়ে আমি খুবই একা হয়ে গিয়েছিলাম এবং বড় বড় অধ্যাপকদের কাছে রীতিমতো ভর্তসনা পেয়েছিলাম, বিশেষ ক’রে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপকদের কাছ থেকে। তবে সেসব ঠিক আছে, এটা একরকম তৃপ্তির বিষয়। অবশ্য এর ফলে আমার প্রাতিষ্ঠানিক পেশাগত জীবনটি খোয়াতে হয়েছিল। তবে তাসত্ত্বেও শেষ অব্দি সঠিক প্রমাণিত হওয়া বেশ সন্তোষজনক একটা ব্যাপার এবং এখন তাই এঁরা সকলে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে থাকেন, এঁরা অযোধ্যাকাণ্ড নিয়ে আর কোনো কথা বলেন না।