শুক্রবার, আগস্ট 17, 2018
Home > অযোধ্যার শ্রীরামমন্দির > ইসলামী হানাদারেরা যে বিশেষ মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল তা কেন আমাদের অবশ্যই বোঝা দরকার

ইসলামী হানাদারেরা যে বিশেষ মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল তা কেন আমাদের অবশ্যই বোঝা দরকার

আমি মনে করি না যে কোনো ব্যক্তিবিশেষের অপরাধবোধে ভোগার অথবা নিরপরাধ হওয়ার খুব একটা গুরুত্ব আছে, হয়তো কোনো বিচারক এসবের ভিত্তিতে রায় দেবেন, তখন শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রে তিনি এই বিষয়গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে কোর্টে পারেন। কিন্তু একটি সামগ্রিক ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই ব্যাপারগুলোর একেবারেই কোনো গুরুত্ব নেই, যেমন ঔরঙ্গজেব এবং তার তথাকথিত নৃশংসতা নিয়ে যাবতীয় বিরক্তির। আমার মতে এ হ’ল ভুল পথে শক্তি ব্যয় ক’রে অকারণে অনেকটা প্রাণবায়ুর ক্ষয়সাধন। ঔরঙ্গজেবের চরিত্র যেমনই হয়ে থাকুক না কেন, তা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসল কথা হচ্ছে সে একটা বিশেষ মতাদর্শ মেনে চলতো, সেই মতাদর্শটিকে সে কার্যে পরিণত করেছিল, এবং আমাদের মাথা ঘামানো উচিত সেই মতাদর্শটিকে নিয়ে, ব্যক্তিটিকে নিয়ে নয়।

এলেনর রুজভেল্টকে প্রায়ই উদ্ধৃত ক’রে একটি কথা বলা হয়ে থাকে, কিন্তু আসলে উক্তিটি তাঁর চেয়ে অন্ততঃ একশো বছর আগেকার, এবং আমরা যতদূর জানতে পেরেছি তাতে বলা যায় যে কোনো এক প্রটেস্টান্ট যাজক এই উক্তিটি করেছিলেন। তবে তিনিও অন্য কাউকে উদ্ধৃত ক’রে থাকতে পারেন, আমরা সঠিক জানি না। যাই হোক, উক্তিটি খুবই উপাদেয়। এতে বলা হয়েছে, “মহান মনীষাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ধারণার আদানপ্রদান ক’রে থাকেন, মধ্যমেধাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করে আর নিম্নমেধার অধিকারীরা আলোচনা করে ব্যক্তিবিশেষকে নিয়ে।” তাই আমি ঔরঙ্গজেব অথবা বাবরের ব্যক্তিচরিত্র নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করি না, কারণ এগুলোর কোনো গুরুত্বই নেই। কিন্তু যে ধারণা বা মতদর্শগুলি এদের চালিত করেছিল, সেগুলি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ সেগুলি এখনো আমাদের মধ্যে রয়েছে এবং লোকে এখনো ঐসব ধারণার বশবর্তী হয়ে থাকে। তাই আমরা ঔরঙ্গজেব অথবা বাবরের বিষয়ে খুব একটা কিছু আর করতে না পারলেও ঐসব ধারণা এবং মতাদর্শগুলির ব্যাপারে কিছু না কিছু করতেই পারি, সেসব লোকজনকে ওগুলির থেকে সাবধান করতে পারি যারা ঐ মতাদর্শগুলির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মত পাল্টে ফেলতে পারে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: