কেন সুপ্রিম কোর্টকে অযোধ্যা মামলায় একটি চূড়ান্ত রায় অবশ্যই দিতে হবে

রায়টি এলো ৬০ বছর বাদে, ২০১০ খৃষ্টাব্দের ১০ই সেপ্টেম্বরে। এটা ছিল একটা মিশ্র রায়, মানে, দুজন হিন্দু ফরিয়াদী এবং একজন এস্কিমো ফরিয়াদীর মধ্যে এস্কিমোটিও সংশ্লিষ্ট পাহাড়ের খানিকটা অংশ পেয়ে গেল। কিন্তু ওই বিশেষ স্থলটি অবশ্যই হিন্দুদের হাতে গেল, এবং আদালত এটাও মেনে নিল যে ওখানে একটি হিন্দু মন্দির ছিল, এবং ওই জায়গাটির উপর হিন্দুদের একটি ন্যায্য অধিকার রয়েছে। এখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা, যারা নিয়তই রক্তপিপাসু, তারা তো শেষ এস্কিমোটি অব্দি হিন্দুদের বিরুদ্ধে অবশ্যই লড়বে এবং তারা আশা করেছিল যে রায়টির বিরুদ্ধে এস্কিমোরা বিক্ষোভ দেখাবে, কিন্তু তেমনটা ঘটেনি কারণ আসলে এস্কিমোরা সত্যি সত্যি অযোধ্যা নিয়ে মাথা ঘামায় না। হিন্দুরা লাখে লাখে অযোধ্যায় তীর্থ করতে যায়। কোনো এস্কিমো কিন্তু কখনো ওখানে যায় না। এস্কিমোরা মক্কায় যায়, পয়সা না থাকলে আজমেরে যায়। তবু তারা কখনো অযোধ্যায় যায় না।

তাই এখন ওই স্থলে কোনো প্রাণস্পন্দন নেই, তাই আমরা ব্যাপারটাকে এখানেই ছেড়ে দিয়ে ওখানে একটা মন্দির বানিয়ে ফেলতে পারতাম। তবে এই রায়ে তিন পক্ষই যে খুশি হ’তে পেরেছে এমন নয়, তারা ওই স্থলটির একশো শতাংশই নিজেদের জিম্মায় আনতে চায়। তাই তারা ব্যাপারটা সুপ্রিম কোর্টে টেনে নিয়ে যায়, যে এখন এই ব্যাপারে নিজের চূড়ান্ত রায় জানাবে। এদিকে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী, যিনি একজন ডাকসাইটে মামলা দায়েরকারী, তিনি দ্রুত রায়দানের আবেদন জানিয়ে আদালতে যান, তাই একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে, যদিও সেটা চূড়ান্ত কিছু নয়, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে নাগরিক সমাজের শুভশক্তিগুলির উচিত নিজেদের মধ্যে একটি আপোষে আসা উচিত।

এখন এতে অবস্থাটা আবার আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে, যখন ভারতবর্ষে কেবলই, ঘন ঘন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হ’ত, কারণ দেখুন এরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ক’রে কোনো মীমাংসায় পৌঁছতে পারবে না, বিশেষ ক’রে এই কারণে পারবে না যেহেতু হিন্দুরা আত্মরক্ষার ব্যাপারে তেমন দড় নয়। তারা দর-কষাকষিতে যায় এই মনোভাব নিয়ে যে অর্ধেক অন্যরা পাবে আর আমরা বাকি অর্ধেকটা পাবো, আর ওদিকে অপরপক্ষ আলোচনার টেবিলে আসে পুরো ১০০ ভাগের অধিকার চেয়ে এবং তারা বলে, ঠিক আছে, আমরা আধাআধি ভাগ ক’রে নেবো, তুমি পাবে অর্ধেকের অর্ধেক আর আমরা বাকি সবটা নেবো। এই হচ্ছে শত্রুপক্ষের কৌশল। তাই বলি যে হিন্দুরা নিজেদের আত্মরক্ষার ব্যাপারে খুব একটা দড় নয়। যাই হোক সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এখানে আইনের শাসন রয়েছে এবং আদালত রয়েছে যারা এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং এই পুরো ঝামেলাটা মেটাবার দায়িত্ব আবার নাগরিক সমাজের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে আদালত নিজের কর্তব্যের চরম অবহেলা করছে। আদালতের দায়িত্বই হ’ল বিচারপূর্বক রায়দান। এখন সৌভাগ্যক্রমে সেই রায় চূড়ান্ত নয়। তাই আমরা এখনও অপেক্ষা করছি কী হয় দেখার জন্য।

You may also like...

Leave a Reply

%d bloggers like this: