তা সত্ত্বেও এইরকম বয়ান, অর্থাৎ তারা যে সত্যিই (মন্দির) ধ্বংস করেছে সেকথা অনেক এস্কিমোই সাম্প্রতিক কয়েক শতাব্দীতে স্বীকার করেছে। এটা কেবলমাত্র বর্তমানেই, অর্থাৎ গত কয়েক দশকেই দেখা যাচ্ছে যে প্রথমে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা এবং তাদের পিছু পিছু এস্কিমোরা এমন দাবী করছে যে মন্দির ধ্বংস করা তো হয়ইনি, এমনকী আদপে কোনো মন্দির ছিলই না। অথচ তার আগে এ ব্যাপারে যে বিজ্ঞানসম্মত ধারণাটি রয়েছে তা নিয়ে এস্কিমোদের কোনো সমস্যা ছিল না, তারা স্বীকার করত যে হ্যাঁ এখানে একটা মন্দির ছিল এবং হ্যাঁ আমরা সেটি ধ্বংস করেছিলাম। এবং কী ঘটেছিল সে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে চাইলে মন্দির ধ্বংস করবার পেছনে যে মতাদর্শটির প্রেরণা কাজ করছে, সেইটি আমাদের বেশ ক’রে খতিয়ে দেখতে হবে। অর্থাৎ এস্কিমোদের প্রতিমাবিদ্বেষের তত্ত্বটির কথা বলছি। এস্কিমো হানাদার বাবরকে শ্রীরামের মন্দিরের পূর্বতন রূপটির বিনাশকারী হিসেবে দায়ী করা হয়। এটি ওই মন্দিরের আদিরূপ না-ই হতে পারে, তবে ওই জায়গাটিকে একটি এস্কিমো উপাসনাস্থলের দ্বারা প্রতিস্থাপিত করবার জন্য বাবরকেই দায়ী করা হয়।

এখন ব্যাপার হচ্ছে যে সে একটা রোজনামচা লিখত। ফলে যেটা সবচেয়ে ভালো হ’ত তা হচ্ছে ঠিক কী ঘটেছিল সে ব্যাপারে আমরা তার নিজের, একেবারে তার নিজের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার বিবরণ পেয়ে যেতাম। দুর্ভাগ্যের কথা, এই রোজনামচাটির কয়েক মাসের বিবরণীসমেত কিছু পাতা হাওয়ায় উড়ে গেছে, যার ফলে অযোধ্যার ঘটনাবলীর অংশটি ওতে থাকলেও ওর নিজের জবানবন্দীটি গায়েব। তা সত্ত্বেও আমরা এটা জানি যে সে মন্দিরগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, এবং আমরা এটাও জানি যে মন্দির ধ্বংস করার খবর দেওয়ার ব্যাপারে সে খুবই কার্পণ্য করতো। অন্য সব ক্ষেত্রে দেখা গেছে যেখানে তার মন্দির ধ্বংসের কুকীর্তির কথা আমরা জানি এবং সে নিজে জায়গাটির কথা উল্লেখ করেছে সেখানেও তার এই কুকীর্তির কোনো বিশদ বিবরণ মেলে না। তবে তার রোজনামচার অবস্থা যাই হোক না কেন, অযোধ্যার ঘটনার ব্যাপারে সেখান থেকে কিছু জানা যায় না। তবে একটি স্থাপত্যকে অন্য একটি স্থাপত্য দিয়ে প্রতিস্থাপিত করার ব্যাপারটা একটা ছক অনুযায়ী ঘটে চলেছিল এবং সারা ভারতে সহস্রবার এই ছকটির পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে, এবং এটাও জানা জরুরি যে এমনটা অন্য নানান দেশেও ঘটেছে। তাই এমনটা একেবারেই নয় যে সমস্ত দোষ হিন্দুদেরই। এমনটা ঘটবার পেছনে হিন্দুদের ভূমিকা ছিল না, যার ভূমিকা ছিল সেটি হচ্ছে প্রতিমাবিদ্বেষের এই ছকটি।