শুক্রবার, আগস্ট 17, 2018
Home > ভারতীয় বীরগণ > ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ > শিবাজির দাক্ষিণাত্য অভিযানে যাওয়ার কারণ

শিবাজির দাক্ষিণাত্য অভিযানে যাওয়ার কারণ

 

এই কাজটি সেরে, অভিষেক সম্পন্ন হবার পর,ছত্রপতি শিবাজি দাক্ষিণাত্য অভিযানে বেরিয়ে পড়লেন এবং তিনি একেবারে জিঞ্জী পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় আস্ত একটি সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন, এটি আপনারা দেখতে পাবেন যে এটি ছত্রপতি শিবাজির গড়ে তোলা রাজত্বের একেবারে কেন্দ্রীয় অংশ। এটিই স্বরাজ্য, যা কারওয়ার থেকে শুরু ক’রে একেবারে নাসিকের উত্তরে, প্রায় গুজরাটের সীমা অবধি বিস্তৃত। তবে ১৬৭৬ সালে তিনি যে দাক্ষিণাত্য বিজয়ে বেরোলেন, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি  কারণ হ’ল, আদিল শাহীর রাজত্ব খুবই সম্পদশালী ছিল। আদিল শাহী রাজত্ব এই অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এছাড়াও এ অঞ্চলে ছিল কুতব শাহী রাজত্ব। একবারে দক্ষিণদিকে বেশ কিছু প্রায়-স্বাধীন হিন্দু রাজাদের রাজত্ব ছিল, ফলে একটি কারণ ছিল এখানকার ধনসম্পদ।

দ্বিতীয়তঃ তিনি একটি বিকল্প হাতে রাখতে চাইছিলেন, অথবা পশ্চাদপসরণ করবার প্রয়োজনে স্বরাজ্যের দক্ষিণে একটি বিকল্প এলাকা খুঁজছিলেন, কারণ যদি উত্তরদিক থেকে কোনো আক্রমণ আসে, তাহলে যাওয়ার জায়গা কোথায়? সেক্ষেত্রে তাঁদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে, তাঁদের পিছু হটবার মতো একটা জায়গা চাই এবং সেই প্রয়োজন থেকেই তিনি কোপবাল, ভেল্লোর এবং জিঞ্জীর মতো বেশ কিছু জায়গা নিজের দখলে এনেছিলেন। তাঞ্জোরের মারাঠাদের ক্ষেত্রে, তাঁকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঞ্জোরের মারাঠাদের সাথে একটি ছোটোখাটো বিবাদে জড়িয়ে পড়তে হয়েছিল, যাঁরা সম্পর্কে তাঁর সৎভাই ছিলেন, কিন্তু শেষমেশ তিনি এই বিশাল অঞ্চলটিকে নিজের অধীনে আনতে পেরেছিলেন। এটা একটা বেশ দেখার মতো ব্যাপার যে জিঞ্জীর দুর্গ, যা তামিলনাড়ুতে অবস্থিত, সেটি তিনি দখল করতে পেরেছিলেন একটিও গোলা না খরচ করেই, এবং একটিও সৈন্যের প্রাণ না নিয়েই। সেখানে বিজাপুরের আদিল শাহীদের একজন হাবশি অর্থাৎ ইথিওপিয়ান সেনাধ্যক্ষ ছিল, অর্থাৎ জিঞ্জীতে, তার নাম ছিল আব্দুল মুহম্মদ সৈয়দ এবং (সেখানে) সে ছিল দুর্গের অভ্যন্তরে, যখন ছত্রপতি শিবাজি দুর্গ অবরোধ করেন। ইতিমধ্যে একজন এখান থেকে, অর্থাৎ বিজাপুর থেকেযাত্রা শুরু করে, তার নাম ছিল শের খান লোদি, এবং শিবাজি তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনে এই দু’পক্ষের মধ্যে প্ররোচনা দিয়ে বিবাদ বাধাতে সক্ষম হয়েছিলেন আর সেই কারণে তিনি জিঞ্জীর দুর্গ দখলে আনতে পেরেছিলেন। পরবর্তীকালে এই দুর্গটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, যে সময় ছত্রপতি রাজারাম রাজত্ব করছিলেন। তো ঐ সময়কালে শিবাজি এইরকম একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তিনি ১৬৮০ সালে দেহ রাখেন। তিনি এই সমস্ত নীতি কার্যকর করেছিলেন, তিনি এইসব বিভিন্ন এলাকা দখলে আনতে পেরেছিলেন এবং এইসবই ঘটেছিল এমন একটা সময়ে যখন যুদ্ধটি শুরু হ’তে চলেছে, তিনি তখনই ১৬৮০ সালে পরলোকগমন করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: