রোহিঙ্গাদের উৎপত্তি এবং কেন তারা জাতি হিসেবে সংখ্যালঘু নয়

এখন ব্যাপার হচ্ছে, আজকের সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টিতে দুটো সমস্যা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই।অবধারিতভাবে সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে রোহিঙ্গা, তবে যেটা বহুদিন ধ’রে ধিকিধিকি জ্বলছে, ক্রমাগত ঘোরালো হয়ে উঠছে, অন্ততঃ ১৯৬০-এর অথবা এমনকী ১৯৫০-এর দশকগুলি থেকেই, তা হ’ল উত্তর-পূর্বে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ। দুটো বিষয়ের দিকেই আমাদের নজর দিতে হবে কারণ এ দু’টির মধ্যে একটা স্পষ্ট ধারাবাহিকতা রয়েছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে যে জাতিগোষ্ঠীটি অনুপ্রবেশ করছে সেটি ছাড়া  দুটি বিষয়ের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এমনকী আমি এমনও বলতে চাই যে এদের মধ্যে কোনো জাতিগত পার্থক্যও নেই কারণ বার্মার পণ্ডিতেরা তাঁদের প্রকাশিত গবেষণায় স্পষ্ট দেখিয়ে দিয়েছেন যে রোহিঙ্গারা আসলে চট্টগ্রাম নামক জায়গা থেকে আসা বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠী।ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক সময়কার দলিলপত্রে তাদের চট্টগ্রামের অধিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা শব্দটিকে আপাতভাবে একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরা এবং সেটিকে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির উপর আরোপ করা আমার মতে তথ্যগতভাবে ভুল এবং ইতিহাসের দিক থেকেও ভুল। রোহিঙ্গা বলতে চিরকাল রোহিঙ্গা মুসলিমদেরই বোঝানো হয়ে এসেছে, অন্য কোনো সম্প্রদায়কে নয়। এই ব্যাপারটা একদম পরিষ্কার হওয়া দরকার। এমনকী, সুপ্রিম কোর্টে আমরা যে আবেদনের মাধ্যমে ব্যাপারটিতে হস্তক্ষেপ করেছি, তার অংশ হিসেবে আমরা ২০০৫ সালের একটি নিবন্ধও দাখিল করেছি, (আমি সেটা সঙ্গে ক’রে নিয়েও এসেছি যাতে উল্লেখ করতে সুবিধে হয়) যা একজন গবেষক SOAS বুলেটিন অফ বার্মা রিসার্চ পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। ধ’রে নিতেপারি যে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের এমন একজন গবেষক যিনি রোহিঙ্গাদের উৎপত্তি, তাদের ঐতিহাসিক আবাসস্থল এবং রাখিন অথবা আরাকান রাজ্যের ভিতরে একটি মুসলিম অঞ্চল গড়ে ওঠবার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন যে দেশটি আমাদের দেশের মতোই ১৯৪৮ সাল থেকে কীসের সঙ্গে যুঝে চলেছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, যে এই ব্যাপারটি অধুনা নয়, বরং ১৯৪৮ সাল থেকে ঘটে চলেছে।

You may also like...

Leave a Reply

%d bloggers like this: