শুক্রবার, আগস্ট 17, 2018
Home > অবৈধ অনুপ্রবেশকারী > অ-প্রত্যর্পণ নীতির অর্থ এই নয় যে “শরণার্থীদের আমন্ত্রণ জানাও, তাদের বসত করার ব্যবস্থা ক’রে ভারতে তাদের পুনর্বাসন দাও”

অ-প্রত্যর্পণ নীতির অর্থ এই নয় যে “শরণার্থীদের আমন্ত্রণ জানাও, তাদের বসত করার ব্যবস্থা ক’রে ভারতে তাদের পুনর্বাসন দাও”

আমার কাছে যখন এই উদাহরণটি রয়েছে, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদন মিলেছে, একের পর এক তিনটি রায়ের মাধ্যমে। আমায় বুঝতে হবে যে আমি এমন কি বলছি যা প্রকৃত ঘটনাবলী এবং আইনের দ্বারা সমর্থিত নয়? এখন তারা বলছে, না না! ভারতে শরণার্থীদের উপর লাগু হবে এমন কোনো আইন না থেকে থাকলেও প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন তো রয়েইছে, যা পৃথিবীর সভ্য দেশগুলির পরিষদের সদস্যভুক্ত সকল দেশের উপর লাগু হয়, এবং আমাদের সকলেরই তা মেনে চলবার কথা।

আমি বললাম, ঠিক আছে, তাহলে আমায় বলুন ঠিক কোন্‌ নীতির ভিত্তিতে আপনারা আন্তর্জাতিক আইন দেখিয়ে বলছেন যে এই মানুষগুলিকে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করবার অবস্থানটি ন্যায্য। তারা বলছে যে একটি নীতি রয়েছে, যার নাম অ-প্রত্যর্পণের নীতি। এর অর্থ কী? এর অর্থ হ’ল, ধরা যাক পাকিস্তান থেকে কোনো একজন ভদ্রমহিলা ভারতে এসে দাবী করলেন যে তাঁকে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য নিপীড়িত হতে হচ্ছে এবং তিনি সেখানকার পরিস্থিতিতে স্বস্তি বোধ করছেন না, তাঁকে আপনি চাইলেও জোর ক’রে পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে পারবেন না – এই হচ্ছে অ-প্রত্যর্পণের নীতি। আরে ভাই, যে আগুনের আঁচ থেকে কেউ নিজেকে রক্ষা করতে চাইছে, তাঁকে আপনি সেই আগুনের মুখেই ঠেলে দিতে পারবেন না, এই হচ্ছে সহজ কথা। এবার দেখতে হবে রোহিঙ্গাদের বেলায় ঠিক কোন নিপীড়নের কথা বলা হচ্ছে এবং ঠিক কোন জায়গায় নিপীড়নটি ঘটছে? মায়ানমার, সেক্ষেত্রে তারা কি সিধে মায়ানমার থেকে ভারতে আসছে? বাংলাদেশে তো এদের এত বড় শিবির রয়েছে, তাই আমি যদি এদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাই, তাহলে কি আমি তাদের এমন কোনো জায়গায় পাঠাচ্ছি যেখানে তাদের নিপীড়িত হতে হচ্ছে? সুতরাং অ-প্রত্যর্পণ নীতি লঙ্ঘিত হবার প্রশ্ন উঠছে কীভাবে?

দ্বিতীয়তঃ, এক্ষেত্রে যদি ধরেও নিই যে নিপীড়ন করা হয়েছে, সেটা ঘটেছে, এবং এটি একটি জ্বলন্ত সমস্যা এবং এটি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীটির জন্য একটি জীবন-মরণের প্রশ্ন।তাহলে কি আপনি বলতে চাইছেন যে সংশ্লিষ্ট দেশটিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের এবং অন্য প্রতিবেশী দেশদেশগুলির নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব নয়, এই ব’লে যে ভাই, এটা এখন স্রেফ তোমার একার সমস্যা নয়, তোমার সমস্যা এখন আমার এলাকাতেও এসে ঢুকেছে, ইন্দিরা গান্ধী তো ১৯৭১-৭২ নাগাদ ঠিক তাই করেছিলেন।রাষ্ট্রপুঞ্জের সাপেক্ষে তাঁর অবস্থান ছিল এইরকম – দয়া ক’রে ভাববেন না যে আমি পাকিস্তানকে দ্বিধাবিভক্ত করতে ইচ্ছুক, আসল সমস্যাটি হচ্ছে প্রচুর লোক এপারে চলে এসেছে, লক্ষ লক্ষ লোক আমাদের দেশে ঢুকে পড়েছে, এবং আমার সামনে এখন একটা সত্যিকারের মানবতার সঙ্কট এসে উপস্থিত হয়েছে, এবং খুব সম্ভবতঃ সেটি একটি জনতাত্ত্বিক সমস্যাও বটে, এবং এ ব্যাপারে আমাকে কিছু একটা করতেই হবে। আজকের দিনেও ঠিক এই একই বয়ান দেওয়া হচ্ছে এবং আমরা ঠিক এই অবস্থানটিই গ্রহণ করতে চাই। তাহলে সমস্যা কোথায়? হাজার হোক উনি সমাজের কোনো কোনো অংশের কাছে অত্যন্ত সম্মাননীয় চরিত্র। যদি তিনি এতই ভুলত্রুটির ঊর্ধে হয়ে থাকেন, তাহলে আজ হঠাৎ ক’রে কি এমন ঘটলযে তাঁর অবস্থানে দোষত্রুটি ধরা পড়তে লাগল?স্রেফ অন্য কেউ বলেছে ব’লে? কে বলেছে তা ভুলে যান, নিজেকে পক্ষপাতহীনভাবে প্রশ্ন করে দেখুন, এই অবস্থানের মধ্যে দোষটা কোথায়? এখন, এই অ-প্রত্যাবর্তনের নীতিটিরও অনেকরকম অর্থ করা যায় –এর অর্থ হ’ল, যদি শরণার্থীদের মঙ্গলের জন্য কিছু করতে পারেন, তাহলে দয়া ক’রে তা করুন– এই হ’ল এর সারমর্ম। তো আপনি দশটা জিনিস করতে পারেন, যেমন – ত্রাণসামগ্রী পাঠানো, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, আর্থিক সাহায্য, মানবিক সাহায্য, এটা দেখা যে তাদের শরণার্থী শিবির – তা সে যেখানেই, যে দেশেই তারা থাকুক না কেন, তাতে যেন উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকে, তা যেন স্বাস্থ্যকর হয়, মানুষের বাসযোগ্য হয়, এই সব করুন। কেন ওর স্রেফ একটাই অর্থ থাকতে হবে, যা হল – তাদের আমন্ত্রণ জানাও, থাকার বন্দোবস্ত ক’রে দাও, পুনর্বাসন দাও এই দেশে?

Leave a Reply

%d bloggers like this: