সোমবার, ডিসেম্বর 10, 2018
Home > অবৈধ অনুপ্রবেশকারী > ভারতে শরণার্থীদের সামলানোর জন্য নির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থা

ভারতে শরণার্থীদের সামলানোর জন্য নির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থা

 

শরণার্থীদের উপর লাগু হবে এমন কোনো আইন আমাদের দেশে নেই বলা গেলেও আমাদের যা রয়েছে তা হ’ল নির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থা যা আমার যতদূর মনে হয় ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর থেকে কার্যকরী হয়েছিল, এবং এনডিএ সরকার তার পর থেকে সেই একই নির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থা অনুসরণ ক’রে এসেছে। আমি একটু এই নির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থা থেকে পড়ে শোনাতে চাই যাতে এটা আমাদের কাজে লাগে এবং এই আলোচনার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেককিছুর মধ্যে এটাও আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে দলিল হিসেবে পেশ করেছি।

এটা বলছে, এবং এটা ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই অগাস্ট ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বারা প্রণীত, ভারতে আসা শরণার্থীদের জন্য আইন, এ কথাই এটি বলে এবং এই একটি মাত্র অনুচ্ছেদ মোটামুটিভাবে শরণার্থীদের প্রতি ভারতের অবস্থানকে ব্যক্ত করে। আচ্ছা, তাহলে এবার এটিতে মনোনিবেশ করা যাক। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপুঞ্জে শরণার্থীদের অবস্থা সংক্রান্ত নিয়মপত্রে ভারত স্বাক্ষর করেনি। এটা হ’ল প্রথম কথা, দয়া ক’রে খেয়াল রাখবেন। কাজেই আমরা এক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারী নই। কাজেই, এই নিয়মপত্রের স্বাক্ষরকারীদের উপর যা কিছু বাধ্যতামূলকভাবে বলবৎ হয়, তা আমাদের উপর হয় না। ঠিক আছে, আমরা অনুমোদন করিনি, আমরা স্বাক্ষর করিনি, আমরা এই বিশেষ নিয়মপত্রটির স্বাক্ষরকারী অথবা সদস্য-দেশ নই।

দ্বিতীয়তঃ, ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের চুক্তিতেও করিনি। তো, প্রত্যেক দলিল, প্রত্যেক আন্তর্জাতিক চুক্তির দলিলের একটি মূল খসড়া থাকে, যার পরবর্তীতে বিভিন্ন চুক্তি বা নিয়মপত্র আনা হয়যেগুলি সেটিকে অনুসরণ ক’রে চলে। কাজেই, আমরা ১৯৫১-এর নিয়মপত্রটির সদস্য বা স্বাক্ষরকারী নই, আবার ১৯৬৭-এর চুক্তির সদস্যও নই, এটা গেল প্রথম কথা। অতএব, যেসব বাধ্যবাধকতা স্বাক্ষরকারীদের উপর বর্তায়, বলবৎ হয় এবং তাঁদের মেনে চলতে হয় সেগুলি আমাদের উপর লাগু হয় না। দুই, এই মুহূর্তে এদেশে শরণার্থী-সংক্রান্ত কোনো জাতীয় আইন নেই। এই হ’ল ভারত সরকারের অবস্থান, এবং এটি প্রকৃত ঘটনা।সরকার ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর প্রত্যেক রাজ্যেএকটি নির্দেশিকা জারি ক’রেছেন যেটি যেসব বিদেশি নাগরিক নিজেকে শরণার্থী হিসেবে দাবী করেন তাঁদের জন্য একটি  সুনির্দিষ্ট বিধির প্রবর্তন করে। অর্থাৎ, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যেক রাজ্য সরকারকে একটি সুনির্দিষ্ট বিধি ব্যবস্থা-নির্দেশিকা পাঠিয়ে বলেছেন, ভাই, যদি আপনার প্রদেশে কোনো অবৈধ শরণার্থী প্রবেশ করে, অথবা শরণার্থী প্রবেশ করে, তাহলে সে ব্যাপারটি কীভাবে সামাল দেবেন তার একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। এই হচ্ছে সেই নির্দিষ্ট রূপরেখা, দয়া ক’রে এটি মেনে চলুন। সেই নির্দিষ্ট রূপরেখাটিকে মেনে নেওয়া হয়েছে, এবং আজ অবধি সেটিকে মেনে চলা হয়।

আমাকে একমাত্র যে প্রশ্নটির জবাবদিহি করতে হবে তা হ’ল, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান এই সুনির্দিষ্ট বিধিটিকে লঙ্ঘন করে কী না, কারণ শরণার্থীদের বিষয়ে ওটিই একমাত্র মাপকাঠি। এটাই একমাত্র আইনি রূপরেখা যা বর্তমানে শরণার্থীদের উপর প্রযোজ্য। এই সুনির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থায় বলে যে যেসব ক্ষেত্রে দৃষ্টতই নিপীড়ন ঘটেছে বলে বোঝা যাচ্ছে, যেখানে ন্যায্য কারণ রয়েছে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, জাতীয়তা, জাতিগত পরিচয়, কোনো একটি বিশেষ সামাজিক গোষ্ঠী অথবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নিপীড়ন ঘটবার ভয় রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে সুপারিশ করতে পারে লং টার্ম ভিসা অনুমোদন করবার জন্য, অবশ্যই সেটা যথাযথ নিরাপত্তামূলক যাচাই ক’রে নেওয়ার পর। একজন বিদেশি, যাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দ্বারা এল টি ভি-র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তিনি বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরিও পেতে পারেন। তাহলে, প্রক্রিয়াটি কী? রাজ্য সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে উপরোধ পাঠাবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যথাযথ নিরাপত্তামূলক যাচাই করে নেবার পর জানাতে পারবে যে একজন ব্যক্তি অথবা একটি গোষ্ঠী লং টার্ম ভিসা পাবার যোগ্য কি না।

Leave a Reply

%d bloggers like this: