রবিবার, জুলাই 15, 2018
Home > অবৈধ অনুপ্রবেশকারী > অসম – কীভাবে ট্রাইব্যুনালের দ্বারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নির্ধারণের আইন প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়াটিকে জটিল ক’রে তুলেছে

অসম – কীভাবে ট্রাইব্যুনালের দ্বারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নির্ধারণের আইন প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়াটিকে জটিল ক’রে তুলেছে

অতএব, অসমের জাতীয় পরিচয় রক্ষা করবার ব্যাপারটি সেই মুহূর্ত থেকেই একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে যখন এটি ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দেয়, আর তাই ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ফরেনার্স অ্যাক্টের পর সর্বপ্রথম যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল তা হ’ল ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ইমিগ্রান্ট্‌স্‌ এক্সপালশন অ্যাক্ট, যা অসমে চালু হয়েছিল, এর পরপরই লোকে বুঝতে পারে যে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমরা এখনো দেখতে পাই যে আমাদের পরিচয়, আমাদের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছেএবং বিশাল সংখ্যায় লোকজন এই বিশেষ স্থানটিতে ঢুকে পড়ছে, এ ব্যাপারে আমাদের কিছু একটা করতে হবে। তাই, সারা ভারত অসম ছাত্রসঙ্ঘ এই ব্যাপারে জোরদার আওয়াজ তুলল, এবং তারই ফলশ্রুতিতে সেই সমাধানসূত্রটি মিলল যা অসম অ্যাকর্ড নামে পরিচিত, যা ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই অগাস্ট নাগাদ মিলেছিল।

এখন, এর আগে কিছু জিনিস ঘটে গেছে, সরকার আইএমডিটি নামের একটি আইন প্রণয়ন করে ফেলেছেন – ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ইল্লিগাল মাইগ্রান্ট্‌স্‌ ডিটরমিনেশন বাই ত্রাইব্যুনাল, যার পরবর্তীতে তারা বিদেশিদের জন্য ট্রাইব্যুনাল গড়ে তুললেন, তাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ট্রাইব্যুনাল গড়ে ফেললেন,যাতে ক’রে এদের নিজেদের দেশে প্রত্যর্পণ করা যায়। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ফরেনার্স অ্যাক্ট রয়েছে, ১৯৫৫-র সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট রয়েছে, ১৯৮৫-র আইএমডিটি অ্যাক্ট রয়েছে, আচ্ছা ১৯৮৩-র।আপনার কাছে তো ফরেনার্স অ্যাক্ট রয়েইছে, যাতে বিদেশীদের তাড়ানোর জন্য, তাহলে আবার ১৯৮৩-তে আরেকটি আইন পাশ করবার দরকার কেন পড়ল? নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, একটিই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য দু-দু’খানা আইনের কি প্রয়োজন? ফরেনার্স অ্যাক্টের দরকার পড়েছিল বিদেশীদের প্রত্যর্পণ করবার উদ্দেশ্যেট্রাইব্যুনাল গঠন করবার জন্যে, এই আইনের বলে সরকারের হাতে যে কাউকে তাড়াবার মতো চরম ক্ষমতা রয়েছে, বেলাগাম ক্ষমতা রয়েছে যার সাহায্যে এদেশের নাগরিক নয়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এরকম যে কাউকে তাড়ানো সম্ভব। তাহলে দ্বিতীয় আইনটির দরকার পড়ল কেন?

এইখানে এটি প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। কেউ যে আসলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, সেটা প্রমাণ করবার কাজটা আইএমডিটি অ্যাক্ট খুব বেশি ক’রে সরকারের কাঁধে চাপিয়ে দেয়, এর ফলে ফরেনার্স অ্যাক্টে এমনটা প্রমাণ করবার যে গুরুভার ছিল তা আর বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং কঠিন ক’রে তোলা হয়, যাতে আপনার পক্ষে কাউকে তাড়ানোর কাজটা আরো কঠিন হয়ে যায়। এর ফলে ঐ আইনটির যে আসল উদ্দেশ্যটাই মাটি হয়ে যায়। এই কারণে, অসমের ছাত্র সঙ্ঘ লেখালেখি এবং সরকারের কাছে দরবার করা চালিয়ে যেতে থাকে। রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে বহু বার দরবার করতে থাকে, এই ব’লে যে আপনারা কী জানেন প্রত্যর্পণ করবার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় কি? যে আইনের বলে প্রত্যর্পণের কাজটা সহজ হবার কথা ছিল সেটি নিজেই, তারা এমন কথা অনেকবার কেন্দ্রকে লিখিত ভাবে জানিয়ে যেতে থাকে যার একেবারে চরম সীমায় পোঁছে তারা ১৯৮৫-র অসম অ্যাকর্ড চুক্তিসাধন করে। কিন্তু তার ফলে কি ঐ আইনটি তুলে নেওয়া হয়েছিল? না, সেটি জারি থাকে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: