আমি এমন যুক্তি উত্থাপন করছি না যে আমাদের আরও বেশি মানুষকে আসতে দেওয়া উচিত হবে না কারণ আমাদের যথেষ্ট সম্পদ নেই, অথবা আমরা ইতিমধ্যেই যথেষ্টর চেয়ে বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট দেশ। মাফ করবেন, আমি ঐ যুক্তির ধার দিয়েও যাবো না, তার একটা বড় কারণ হ’ল আমি নিপীড়িত ইন্ডিক সপ্রদায়গুলির মানুষজনকে ভারতে আশ্রয় দেবার পক্ষে। এতে কী ভুল থাকতে পারে? এমনিতেই সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টে এই যুক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে, যেখানে আসলে বলা হচ্ছে যে কিছু নির্দিষ্ট নিপীড়িত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষজনকে, যেমন আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ – এই তিনটি দেশের হিন্দু, পারসি, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা চাকমাদের চিহ্নিত ক’রে তাঁদের জন্য এলটিভি বরাদ্দ করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, অর্থাৎ লং টার্ম ভিসা, যাতে তাঁরা এদেশে বসবাস করতে পারেন।

তার কারণ আমরা তো ইতিহাসটা ভুলে যেতে পারিনা, যেখানে পরিষ্কার বলা রয়েছে যে এইসব মানুষেরা চিরকাল এই নির্দিষ্ট উপমহাদেশেরই অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁরা এই উপমহাদেশেরই কোনো না কোনো অংশে বাস করবেন এমনটাই তো হওয়া উচিত, আর এর জন্য মাতৃভূমির চেয়ে ভালো জায়গা আর কী-ই বা হতে পারে, যা হ’ল ভারতবর্ষ, এবং এখানে একটা আইনি যুক্তি দেবার জায়গা রয়েছে।আমি একমাত্র সেইসব মানুষজনকেই এদেশে আমন্ত্রণ জানাবো, যারা আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যা আমি নিজের অস্তিত্বের জন্য সঙ্কটজনক ব’লে মনে করি সে রকম কিছু ডেকে আনবে না। আইন অনুযায়ী আমায় এদেশে সবার প্রতি সমান আচরণ করবার কথা। কিন্তু যখন কেউ আমার দেশে প্রবেশ করবার চেষ্টা করছে, তখন দেশের সার্বভৌমত্বের বলে আমার অধিকার সর্বোচ্চ, যার অর্থ হ’ল কে ঢুকতে পারবে আর কে পারবে না সেটা আমি ঠিক করবো, এবং সে উদ্দেশ্যে আমি নির্দিষ্ট কিছু কারণও দেখাতে পারি। আমি নির্দিষ্ট যুক্তির অবতারণা করতে পারি।

অতএব এমনটা বলা বেআইনি কিংবা অসাংবিধানিক নয় যে এই হচ্ছে সেইসব মানুষজন যাঁদের আমি নিজের দেশে আমন্ত্রণ জানাবো কারণ আমার বিশ্বাস তাঁরা ঝামেলা ডেকে আনবেন না। কাজেই কেউ যদি এরকম মূর্খের মতো তর্ক জুড়ে দেয় যে তুমি জরাথুস্ট্রিয়দের আহ্বান জানিয়েছ, তুমি তিব্বতিদের আহ্বান জানিয়েছ, তুমি এইসব গোষ্ঠীর মানুষদের আমন্ত্রণ করেছ, তাহলে বলব, হ্যাঁ করেছি তার কারণ আমার বিশ্বাস এঁরা আমার কোনো ক্ষতি করবেন না। আমার পক্ষে কি এটা চিন্তার কারণ হওয়ার কথা নয় যখন ৪০০০০ লোক ঢুকে পড়েছে এবং এই ৪০০০০ লোকের মধ্যে ১৬০০০ লোক খুব সম্ভবতঃ ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত স্থান, জম্মু ও কাশ্মীরে রয়েছে এবং সমস্ত জিহাদি সংগঠন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন তাদের পিছনে রয়েছে মতত দেওয়ার জন্য? আপনি কি আসলে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তটিকেই প্রমাণ করছেন না, যে এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে? যে এমনটা সত্যি।

এই কথা মনে রাখলে এমন অবস্থান নেওয়াটা আইনসিদ্ধ হয়ে যায় যে নিজস্ব পরিচয়ের উপর ভিত্তি ক’রে ভারতের অধিকার রয়েছে এবং খুব সম্ভবতঃ রয়েওছে, রয়েইছে যে কে ভারতে ঢুকবে এবং কে ঢুকবে না। এই অবস্থানটি আমি কীসের ভিত্তিতে নিচ্ছি? আমি এই অবস্থানটি নিচ্ছি ফরেনার্স অ্যাক্টের উপর ভিত্তি ক’রে যা দুটি ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়ে গেছে, একটি ’৯১ সালে যাতে এটা পরিষ্কার বলা হয়েছে যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার করবার ব্যাপারে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আমি ঠিক এর উল্টোটা বলছি, যে কাকে ঢুকতে দেওয়া হবে অথবা হবে না সে ব্যাপারেও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা রয়েছে। যদি আমার অধিকারের বলে আমি লোকজনকে তাড়াতে পারি, তাহলে সেই একই অধিকারের বলে আমি লোকজনকে আমন্ত্রণও জানাতে পারি। এই হচ্ছে উল্টোটা। জেমস বন্ডের কায়দায় বলতে গেলে, হত্যা করবার লাইসেন্স পাওয়ার অর্থ হ’ল একইভাবে হত্যা না করবার লাইসেন্সটিও পেয়ে যাওয়া।

কাজেই, যতদূর আমি বুঝি, একমাত্র ফরেনার্স অ্যাক্ট আইনটিই এই সমস্যায় প্রয়োগ করা যেতে পারে অথবা অন্ততঃ এটিকেই চূড়ান্ত ব’লে মেনে নিতে হবে কারণ আপনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ এবং ২১আওড়াতে পারবেন না, তার কারণ হ’ল সেই একই রায়ে আদালত এটাও বলেছে যে এইসব মানুষজন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর সুযোগ পাবে, যার অর্থ হ’ল তাদের সঙ্গে সম্মাননীয় আচরণ করতে হবে। এখন তাদের সম্মান করবার অর্থ এই নয় যে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে এই দেশেই থাকবার জায়গা ক’রে দিতে হবে, কারণ আপনি যদি সেটা করেন তাহলে যে কেউ এখানে ঢুকে প’ড়ে অনুচ্ছেদ ২১ এবং ১৪ আউড়ে ফরেনার্স অ্যাক্টের মাধ্যমে এ দেশ থেকে তাদের তাড়াবার যে ক্ষমতা সরকারের রয়েছে সেটিকে নিষ্ক্রিয় ক’রে দিতে পারে।

Leave a Reply

You may also like

ইসলামী আক্রমণ ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ জানেন কি মধ্যযুগীয় ইতিহাস শ্রীমহাভারত

ঔরংজেবের শেষ অভিযান এবং তার চূড়ান্ত পরাজয়

post-image

 

তো সেই সময়ে ঔরংজেব ঠিক করল যে আমি শেষ অভিযানে বেরবো,সমস্ত দুর্গ দখল করবো এবং পশ্চিম মহারাষ্ট্রে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করবো। আর এর ফলে, ১৭০০ সালে, ৮৫ বছর বয়সে ঔরংজেব তার জীবনের সর্বশেষ অভিযানে বেরোল। ধ’রে নেওয়া হয়েছিল যে সেটি মুঘলদের জন্যে একটি সহজ অভিযান হতে চলেছে, যে অভিযানে তারা সমস্ত দুর্গ দখল ক’রে নেবে এবং যেহেতু ক্ষমতা রয়েছে একটি ২৫ বছর বয়স্ক নারীর হাতে, তাই মারাঠাদের দিক থেকে কিছুই করা হবে না। এর চেয়ে বড় ভুল সে হয়তো আর করেনি, কারণ সে যুদ্ধ করত,সে একটা ক’রে দুর্গে যেত, যুদ্ধ করতেই থাকত, করতেই থাকত, আর ওদিকে মহারাণী তারাবাই স্বয়ং সেনার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। যাঁরা কেল্লার হয়ে যুদ্ধ করছিলেন, তাঁদের অনেক চিঠি পাঠানো হ’ত এই ব’লে যে তাঁরা মুঘলদের দূর করবার কাজটা বেশ ভালভাবেই সামলাচ্ছেন। এই স্থানগুলিতে মোটামুটি বছরখানেক ধ’রে যুদ্ধ চলত, শেষমেশ তাঁরা আগেকার নীতি অনুসরণ ক’রে দুর্গ বেচে দিতেন, মুঘলদের এইসব দুর্গ বেচা হ’ত চড়া দামে কারণ…

Read More
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ মধ্যযুগীয় ইতিহাস শ্রীমহাভারত

মারাঠাদের গেরিলা যুদ্ধের ফলে বহু জায়গায় মুঘলদের পরাজয় ঘটেছিল

post-image

তো এই ছিল ১৬৯০-এর দশকে সংঘটিত যুদ্ধের প্রভাব, যার ফলে মারাঠারা খুবই শক্তিশালীসৈন্যদল গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছিল। তারা এই একই গেরিলা যুদ্ধনীতির আশ্রয় নিয়েছিল যাতে আঘাত হেনেই দ্রুত পলায়ন করতে হয়, এটি আসলে ছিল দীর্ঘকাল ধ’রে বারবার আক্রমণ হেনে অপর পক্ষকে দুর্বল বানিয়ে ফেলবার যুদ্ধনীতি, এবং বহু জায়গায় এভাবে যুদ্ধ হয়ে থাকে।

এর ফলস্বরূপ মুঘল রাজকোষ একেবারে শূন্য হয়ে পড়েছিল। এই যুদ্ধে তাদের প্রতি বছর প্রায় ১৫০০০ লোকক্ষয় হচ্ছিল। শাহজাহান, জাহাঙ্গীরের সময়কার ধনরত্ন, একেবারে আকবর, জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের সময়কাল থেকে সঞ্চিত ধনরাশি, লালকেল্লায় রক্ষিত যেসব সিন্দুক কোনোদিন খোলাই হয়নি, সেসবও খোলা হতে লাগল পাওনাদারের অর্থ পরিশোধ করবার জন্য। অনেক জায়গায় মারাঠারা কোনো একজন মুঘল সেনাপতিকে বন্দী ক’রে তার মুক্তিপণ হিসেবে অর্থ চাইত, পেয়ে গেলে তাকে ছেড়ে দিয়ে পিছু হটত। অনেক জায়গায় আবার দুর্গটিকেই বেচে দেওয়া হ’ত, প্রথমে দুর্গরক্ষার জন্যলড়ে যখন দেখা যেত যে লড়াই চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব, তখন তারা অর্থ দাবী করত, অর্থ আদায় করত, দুর্গটি…

Read More
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ জানেন কি মধ্যযুগীয় ইতিহাস শ্রীমহাভারত

মারাঠা সেনানায়ক সান্তাজি ঘোরপাড়ে কর্তৃক ঔরংজেবের শিবির আক্রমণ

post-image

সান্তাজি ঘোরপাড়ের নেতৃত্বে একটি অত্যন্ত দুঃসাহসী আক্রমণ চালানো হয়েছিল, তাও আবার একেবারে ঔরংজেবের নিজের শিবিরে। সেই সময়ে ঔরংজেবের শিবির ফেলা হয়েছিল, কোরেগাঁও অঞ্চলে শিবিরটি ছিল, এই অঞ্চলটি পুণার কাছে অবস্থিত এবং তারা সেখান থেকে চাকানের দুর্গটি দখল করার ছক কষছিল। তার গোটা শিবিরটিই ওখানে ফেলা হয়েছিল। তবে সান্তাজি ঘোরপাড়ে এবং তাঁর চরেরা সেই শিবিরের গোটা নকশাটি নিখুঁতভাবে জেনে নিয়েছিলেন।আপনারা দেবগিরির যাদবদের সময়কালে যা ঘটেছিল তার সঙ্গে এই ঘটনাটির তুলনা করতে পারেন। মাত্র পনেরো মেইল দূরত্বে কি ঘটছে না ঘটছে সে বিষয়ে তাঁদের কোনো ধারণাই ছিল না। সান্তাজি ঘোরপাড়ে গোটা শিবিরের নকশাটি খুঁজে পেতে সমর্থ হয়েছিলেন, কোথায় ঔরংজেবের তাঁবু, সৈন্যদের তাঁবুই বা কোথায় সবই তাঁর নখদর্পণে ছিল।

রাতের বেলা ঘোর অন্ধকারে তিনি প্রবেশ করতে পেরেছিলেন, তবে এক প্রহরী তাঁর পথ আটকেছিল। তাঁর সঙ্গে প্রায় পঞ্চাশজন সৈনিক ছিল, অর্থাৎ সান্তাজি ঘোরপাড়ের সঙ্গে, গোটা পরিকল্পনাটি ছিল এইরকম –ঔরংজেব যেখানে রয়েছে সেই তাঁবুতে গিয়ে তার মাথাটি কেটে সঙ্গে ক’রে বিশালগড়ে…

Read More
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ জানেন কি মধ্যযুগীয় ইতিহাস শ্রীমহাভারত

শিবাজির দাক্ষিণাত্য অভিযানে যাওয়ার কারণ

post-image

 

এই কাজটি সেরে, অভিষেক সম্পন্ন হবার পর,ছত্রপতি শিবাজি দাক্ষিণাত্য অভিযানে বেরিয়ে পড়লেন এবং তিনি একেবারে জিঞ্জী পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় আস্ত একটি সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন, এটি আপনারা দেখতে পাবেন যে এটি ছত্রপতি শিবাজির গড়ে তোলা রাজত্বের একেবারে কেন্দ্রীয় অংশ। এটিই স্বরাজ্য, যা কারওয়ার থেকে শুরু ক’রে একেবারে নাসিকের উত্তরে, প্রায় গুজরাটের সীমা অবধি বিস্তৃত। তবে ১৬৭৬ সালে তিনি যে দাক্ষিণাত্য বিজয়ে বেরোলেন, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি  কারণ হ’ল, আদিল শাহীর রাজত্ব খুবই সম্পদশালী ছিল। আদিল শাহী রাজত্ব এই অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এছাড়াও এ অঞ্চলে ছিল কুতব শাহী রাজত্ব। একবারে দক্ষিণদিকে বেশ কিছু প্রায়-স্বাধীন হিন্দু রাজাদের রাজত্ব ছিল, ফলে একটি কারণ ছিল এখানকার ধনসম্পদ।

দ্বিতীয়তঃ তিনি একটি বিকল্প হাতে রাখতে চাইছিলেন, অথবা পশ্চাদপসরণ করবার প্রয়োজনে স্বরাজ্যের দক্ষিণে একটি বিকল্প এলাকা খুঁজছিলেন, কারণ যদি উত্তরদিক থেকে কোনো আক্রমণ আসে, তাহলে যাওয়ার জায়গা কোথায়? সেক্ষেত্রে তাঁদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে, তাঁদের পিছু হটবার মতো একটা…

Read More
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ মধ্যযুগীয় ইতিহাস শ্রীমহাভারত

মুঘল আগ্রাসনের আসন্ন বিপদ এড়াতে ছত্রপতি শিবাজি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন

post-image

 

এবার আমরা আসি দুর্গগুলির কথায়, আমি আগেই বলেছি কীভাবে দেবগিরির দুর্গটির জন্য যুদ্ধ হয়েছিল এবং সে যুদ্ধে পরাজয় ঘটেছিল। এবং শিবাজি যা করেছিলেন তা হ’ল – তিনি দুর্গ তৈরি করবার প্রণালীতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছিলেন। তিনি একাধিক প্রবেশ এবং নিষ্ক্রমণের পথ তৈরি করিয়েছিলেন। আপনি যদি মহারাষ্ট্রে যান, তাহলে দেখতে পাবেন যে প্রত্যেকটি দুর্গের একাধিক প্রবেশ এবং নির্গমন পথ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ এই হ’ল তোরনার দুর্গ, এখানে জুঞ্জার মাচির দিক থেকে একটি প্রবেশপথ রয়েছে এবং দুর্গের অপর প্রান্তে আরো একটি প্রবেশপথ রয়েছে বুধলা মাচির দিক থেকে। ফলে এতে একাধিক প্রবেশপথ রয়েছে।

তারপর তিনি অনুরূপভাবে স্থাপত্যের গঠন পাল্টালেন, তিনি রায়গড়ের মত দ্বি-স্তরীয় দেওয়ালবিশিষ্ট দুর্গ তৈরি করালেন। তিনি শুধুমাত্র এটা নিশ্চিত করেই ক্ষান্ত হলেন না যে দুর্গে যেন যথেষ্ট পরিমাণে শস্য মজুত থাকে, তিনি দেখলেন যাতে দুর্গটি স্বনির্ভর হতে পারে, যাতে সত্যিই দুর্গের ভেতরেই ফসল ফলানো সম্ভব হয়। যথেষ্ট পরিমাণে জলের ব্যবস্থাও করলেন। তিনি অনেকগুলি জলাধার তৈরি করালেন এবং বলতে…

Read More
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ জানেন কি মধ্যযুগীয় ইতিহাস শ্রীমহাভারত

ছত্রপতি শিবাজির করা নানান সংস্কার এবং হিন্দভি স্বরাজের আদর্শটির গঠন

post-image

ছত্রপতি শিবাজি নানান শাসনতান্ত্রিক এবং সামরিক সংস্কারসাধন করেছিলেন, যা ভবিষ্যতে মারাঠাদের শক্ত ভিতে দাঁড় করিয়েছিল। এসবই লেখা আছে রামচন্দ্র পন্ত রচিত ‘আজ্ঞাপত্র’ নামের বইটিতে, আমরা পরে এই ব্যক্তিটির সম্পর্কে আলোচনা করব। তিনি ছত্রপতি শিবাজির শাসনকালে একজন অমাত্য অর্থাৎ কর আধিকারিক ছিলেন। তিনি অষ্ট প্রধানদের মধ্যে কনিষ্ঠতম ছিলেন এবং ভবিষ্যতে তিনি মারাঠাদের মধ্যে এবং মারাঠা রাজনীতির ক্ষেত্রে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তবে সেই সময়ে ছত্রপতি শিবাজি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রবর্তন করেন, যেগুলি কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল এবং তাঁর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল। সবার প্রথমে তিনি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে কাজটি করেছিলেন তা হ’ল ওয়াতনদার প্রথার উচ্ছেদ।সেই সময় পর্যন্ত প্রতিটি দুর্গ কারুর না কারুর জায়গীর ছিল। প্রত্যেকটি দুর্গ ছিল পাকাপোক্তভাবে তৈরি এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ, এবং প্রত্যেকটি ব্যক্তি, যাদের অধীনে এই দুর্গগুলি থাকত, অর্থাৎ প্রত্যেক দেশমুখ নিজেরাই হয়ে বসেছিল এক একজন রাজা। তিনি এইসব জমির ইজারা নেওয়া সুবিধেভোগীদের উৎখাত করলেন এবং তার বদলে বেতনভোগী সৈন্যদল চালু করলেন। এই…

Read More
অযোধ্যার শ্রীরামমন্দির ইসলামী আক্রমণ মধ্যযুগীয় ইতিহাস সম্ভাষণের অংশবিশেষ হিন্দু মন্দিরগুলির অশুচিকরণ

মুসলিম আক্রমণকারীদের প্রতিমাবিদ্বেষের তত্ত্ব

post-image

তা সত্ত্বেও এইরকম বয়ান, অর্থাৎ তারা যে সত্যিই (মন্দির) ধ্বংস করেছে সেকথা অনেক এস্কিমোই সাম্প্রতিক কয়েক শতাব্দীতে স্বীকার করেছে। এটা কেবলমাত্র বর্তমানেই, অর্থাৎ গত কয়েক দশকেই দেখা যাচ্ছে যে প্রথমে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা এবং তাদের পিছু পিছু এস্কিমোরা এমন দাবী করছে যে মন্দির ধ্বংস করা তো হয়ইনি, এমনকী আদপে কোনো মন্দির ছিলই না। অথচ তার আগে এ ব্যাপারে যে বিজ্ঞানসম্মত ধারণাটি রয়েছে তা নিয়ে এস্কিমোদের কোনো সমস্যা ছিল না, তারা স্বীকার করত যে হ্যাঁ এখানে একটা মন্দির ছিল এবং হ্যাঁ আমরা সেটি ধ্বংস করেছিলাম। এবং কী ঘটেছিল সে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে চাইলে মন্দির ধ্বংস করবার পেছনে যে মতাদর্শটির প্রেরণা কাজ করছে, সেইটি আমাদের বেশ ক’রে খতিয়ে দেখতে হবে। অর্থাৎ এস্কিমোদের প্রতিমাবিদ্বেষের তত্ত্বটির কথা বলছি। এস্কিমো হানাদার বাবরকে শ্রীরামের মন্দিরের পূর্বতন রূপটির বিনাশকারী হিসেবে দায়ী করা হয়। এটি ওই মন্দিরের আদিরূপ না-ই হতে পারে, তবে ওই জায়গাটিকে একটি এস্কিমো উপাসনাস্থলের দ্বারা প্রতিস্থাপিত করবার জন্য বাবরকেই দায়ী করা হয়।

এখন ব্যাপার হচ্ছে যে সে…

Read More
ইসলামী আক্রমণ মধ্যযুগীয় ইতিহাস হিন্দু মন্দিরগুলির অশুচিকরণ

মূর্তিপূজার বিরোধীদের পাপ ধুতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী পণ্ডিতরা যেসব যুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করেন

post-image

এখন রিচার্ড ঈটন এমন কথা বলেছেন। তিনি একজন আমেরিকান এবং স্বঘোষিত কমিউনিস্ট অ্যাকাডেমিক এবং তিনি দাবি করেন যে হিন্দুরা যথেচ্ছ মন্দির ধ্বংস করেছে এবং এটাই তাদের চরিত্রগত খুঁত। বাস্তবে তিনি কিছুতেই এমন কোনো উদাহরণ খুঁজে পান না, স্রেফ হাতে গোনা কয়েকটা ঘটনা ছাড়া যেখানে হিন্দুরা মন্দির ধ্বংস করেবি, বরং মন্দিরের প্রতিমাটি অপহরণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিমাটি নিজের অধিকারে রাখা একটা অহংকারের বিষয় ছিল, কখনো সেটি শিল্প হিসেবে অমূল্য ছিল ইত্যাদি। আর তাই শাসকরা সেটি হাতাতে চাইতেন এবং তাই নিয়ে যুদ্ধ লাগত। শেষমেশ দেখা যেত প্রতিমাটি অপহৃত হয়েছে, যেটা কিনা পরে বিজয়ী রাজার মূল মন্দিরে স্থান পেয়েছে এবং যে মন্দিরে সেই প্রতিমাটি পূর্বে ছিল তার কোনো ক্ষতি করা হয়নি, এবং অবশ্যই যে যুদ্ধে হেরে গেছে সেই রাজা তাঁর মন্দিরে একটি নতুন বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা ক’রে একইভাবে পূজা-অর্চনা চালিয়ে যেতে পারতেন।

ফলে, এই ব্যাপারটা এস্কিমোদের মূর্তিবিদ্বেষের থেকে একেবারে আলাদা ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল একেবারেই অবমাননা করা এবং শেষ অব্দি পরাজিতের ধর্মটিকে উচ্ছেদ করা,…

Read More
%d bloggers like this: