সোমবার, জুলাই 23, 2018
Home > অবৈধ অনুপ্রবেশকারী > ভারতের উচিত সমস্ত নিপীড়িত ইন্ডিক সম্প্রদায়গুলিকে শরণ দেওয়া

ভারতের উচিত সমস্ত নিপীড়িত ইন্ডিক সম্প্রদায়গুলিকে শরণ দেওয়া

 

আমি এমন যুক্তি উত্থাপন করছি না যে আমাদের আরও বেশি মানুষকে আসতে দেওয়া উচিত হবে না কারণ আমাদের যথেষ্ট সম্পদ নেই, অথবা আমরা ইতিমধ্যেই যথেষ্টর চেয়ে বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট দেশ। মাফ করবেন, আমি ঐ যুক্তির ধার দিয়েও যাবো না, তার একটা বড় কারণ হ’ল আমি নিপীড়িত ইন্ডিক সপ্রদায়গুলির মানুষজনকে ভারতে আশ্রয় দেবার পক্ষে। এতে কী ভুল থাকতে পারে? এমনিতেই সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টে এই যুক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে, যেখানে আসলে বলা হচ্ছে যে কিছু নির্দিষ্ট নিপীড়িত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষজনকে, যেমন আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ – এই তিনটি দেশের হিন্দু, পারসি, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা চাকমাদের চিহ্নিত ক’রে তাঁদের জন্য এলটিভি বরাদ্দ করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, অর্থাৎ লং টার্ম ভিসা, যাতে তাঁরা এদেশে বসবাস করতে পারেন।

তার কারণ আমরা তো ইতিহাসটা ভুলে যেতে পারিনা, যেখানে পরিষ্কার বলা রয়েছে যে এইসব মানুষেরা চিরকাল এই নির্দিষ্ট উপমহাদেশেরই অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁরা এই উপমহাদেশেরই কোনো না কোনো অংশে বাস করবেন এমনটাই তো হওয়া উচিত, আর এর জন্য মাতৃভূমির চেয়ে ভালো জায়গা আর কী-ই বা হতে পারে, যা হ’ল ভারতবর্ষ, এবং এখানে একটা আইনি যুক্তি দেবার জায়গা রয়েছে।আমি একমাত্র সেইসব মানুষজনকেই এদেশে আমন্ত্রণ জানাবো, যারা আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যা আমি নিজের অস্তিত্বের জন্য সঙ্কটজনক ব’লে মনে করি সে রকম কিছু ডেকে আনবে না। আইন অনুযায়ী আমায় এদেশে সবার প্রতি সমান আচরণ করবার কথা। কিন্তু যখন কেউ আমার দেশে প্রবেশ করবার চেষ্টা করছে, তখন দেশের সার্বভৌমত্বের বলে আমার অধিকার সর্বোচ্চ, যার অর্থ হ’ল কে ঢুকতে পারবে আর কে পারবে না সেটা আমি ঠিক করবো, এবং সে উদ্দেশ্যে আমি নির্দিষ্ট কিছু কারণও দেখাতে পারি। আমি নির্দিষ্ট যুক্তির অবতারণা করতে পারি।

অতএব এমনটা বলা বেআইনি কিংবা অসাংবিধানিক নয় যে এই হচ্ছে সেইসব মানুষজন যাঁদের আমি নিজের দেশে আমন্ত্রণ জানাবো কারণ আমার বিশ্বাস তাঁরা ঝামেলা ডেকে আনবেন না। কাজেই কেউ যদি এরকম মূর্খের মতো তর্ক জুড়ে দেয় যে তুমি জরাথুস্ট্রিয়দের আহ্বান জানিয়েছ, তুমি তিব্বতিদের আহ্বান জানিয়েছ, তুমি এইসব গোষ্ঠীর মানুষদের আমন্ত্রণ করেছ, তাহলে বলব, হ্যাঁ করেছি তার কারণ আমার বিশ্বাস এঁরা আমার কোনো ক্ষতি করবেন না। আমার পক্ষে কি এটা চিন্তার কারণ হওয়ার কথা নয় যখন ৪০০০০ লোক ঢুকে পড়েছে এবং এই ৪০০০০ লোকের মধ্যে ১৬০০০ লোক খুব সম্ভবতঃ ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত স্থান, জম্মু ও কাশ্মীরে রয়েছে এবং সমস্ত জিহাদি সংগঠন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন তাদের পিছনে রয়েছে মতত দেওয়ার জন্য? আপনি কি আসলে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তটিকেই প্রমাণ করছেন না, যে এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে? যে এমনটা সত্যি।

এই কথা মনে রাখলে এমন অবস্থান নেওয়াটা আইনসিদ্ধ হয়ে যায় যে নিজস্ব পরিচয়ের উপর ভিত্তি ক’রে ভারতের অধিকার রয়েছে এবং খুব সম্ভবতঃ রয়েওছে, রয়েইছে যে কে ভারতে ঢুকবে এবং কে ঢুকবে না। এই অবস্থানটি আমি কীসের ভিত্তিতে নিচ্ছি? আমি এই অবস্থানটি নিচ্ছি ফরেনার্স অ্যাক্টের উপর ভিত্তি ক’রে যা দুটি ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়ে গেছে, একটি ’৯১ সালে যাতে এটা পরিষ্কার বলা হয়েছে যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার করবার ব্যাপারে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আমি ঠিক এর উল্টোটা বলছি, যে কাকে ঢুকতে দেওয়া হবে অথবা হবে না সে ব্যাপারেও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা রয়েছে। যদি আমার অধিকারের বলে আমি লোকজনকে তাড়াতে পারি, তাহলে সেই একই অধিকারের বলে আমি লোকজনকে আমন্ত্রণও জানাতে পারি। এই হচ্ছে উল্টোটা। জেমস বন্ডের কায়দায় বলতে গেলে, হত্যা করবার লাইসেন্স পাওয়ার অর্থ হ’ল একইভাবে হত্যা না করবার লাইসেন্সটিও পেয়ে যাওয়া।

কাজেই, যতদূর আমি বুঝি, একমাত্র ফরেনার্স অ্যাক্ট আইনটিই এই সমস্যায় প্রয়োগ করা যেতে পারে অথবা অন্ততঃ এটিকেই চূড়ান্ত ব’লে মেনে নিতে হবে কারণ আপনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ এবং ২১আওড়াতে পারবেন না, তার কারণ হ’ল সেই একই রায়ে আদালত এটাও বলেছে যে এইসব মানুষজন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর সুযোগ পাবে, যার অর্থ হ’ল তাদের সঙ্গে সম্মাননীয় আচরণ করতে হবে। এখন তাদের সম্মান করবার অর্থ এই নয় যে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে এই দেশেই থাকবার জায়গা ক’রে দিতে হবে, কারণ আপনি যদি সেটা করেন তাহলে যে কেউ এখানে ঢুকে প’ড়ে অনুচ্ছেদ ২১ এবং ১৪ আউড়ে ফরেনার্স অ্যাক্টের মাধ্যমে এ দেশ থেকে তাদের তাড়াবার যে ক্ষমতা সরকারের রয়েছে সেটিকে নিষ্ক্রিয় ক’রে দিতে পারে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: