স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী – হিন্দুধর্ম রক্ষা করতে হ’লে সংবিধান সংশোধন করুন

আরেকটি গুরত্বপূর্ণ ভারতীয় পরিস্থিতির কথা আমি বলতে চাই, আমি একজন সন্ন্যাসী, অহিংসা আমার ব্রত। সত্যি বলতে, অহিংসাই প্রত্যেক সন্ন্যাসীর ব্রত। অহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়। সর্বভূতেভ্যঃ অভয়মদত্ত্বা। আমি সন্ন্যাস পালন করছি, সন্ন্যাস গ্রহণ করেছি, সকলকে সমভাবে নিঃশর্ত শরণ দান করে…অর্থাৎ সকলকে সম্পূর্ণ দান করে (থেমে) সকল জীবকে, প্রাণীকে, এমনকী দেবতাদেরও এই অভয়দান ক’রে যে আমি আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নই, আমি আপনাদের কারুর কোনও ক্ষতি করবো না, কায়েনবাচামনসা, এই হ’ল সন্ন্যাস। আমি এই ব্যাপারে অবগত আছি, আমি সন্ন্যাসী।

আমি হৃষীকেশে বসে রয়েছি, এমন সময় দুজন লোক আমার কাছে আসে, একজন খৃষ্টীয় যাজক, পাদ্রি, অন্যজন মৌলবী, দুজনেই আমার কাছে এল। আমি তাদের আমন্ত্রণ জানাই, তাঁরা ধর্মভীরু লোক, তাঁরা সমর্পিতপ্রাণ। আমি তাঁদের সম্মান করি, সম্মান প্রদর্শন করি, তাঁদের বসতে দিই। তাঁরা আমার সঙ্গে একটি বিষয়ে তর্ক করতে আরম্ভ করেন, আমি তাঁদের সঙ্গে ঠিক তর্ক করতে পারিনা কারণ আপনি কেবল তাঁদের সঙ্গেই তর্ক করতে চাইবেন যাঁদের কিছু বোঝানো সম্ভব। আমি তাঁদের সঙ্গে একেবারেই তর্ক করতে চাইনা যারা আমাকে বোঝাতে চান, আমার এতে একেবারেই রুচি নাই আর তাই…আমি তর্ক করতে চাই না, মানুষ হিসেবে তাঁদের সাথে আলাপ করতে আমার ভালো লাগে, আর তারপরতাঁদের সঙ্গে বসে আমি কথাবার্তা চালালাম, তাঁরা ঝগড়া আরম্ভ করে দিলেন, এদিকে আমার সাথে ঝগড়া করবার মত কোনো কারণই নেই, আর তারপর তাঁরা আমায় মারতে আরম্ভ করলেন, আর…এটা স্রেফ একটা কাল্পনিক গল্প, বাস্তবে এমন কিছুই ঘটেনি।

দূরে একজন পুলিশকর্মী দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমায় যখন এঁরা উত্তম মধ্যম দিচ্ছেন, মানে ঐ দুজন, তখন আমি সেই পুলিশকর্মীর দিকে তাকিয়ে অনুনয়-বিনয় করতে লাগলাম, “ওহে, দয়া ক’রে এঁদের ক্ষান্ত করুন। আমি এঁদের পাল্টা মারতে চাই না, অহিংসা আমার ব্রত, আমি এঁদের পাল্টা মারতে চাই না, আপনি দয়া ক’রে কিছু একটা করুন”, এই ব’লে আমি অনুরোধ করতে থাকি। উত্তরেসে বলে যে এটি ধর্মীয় ব্যাপার, আমি ধর্মনিরপেক্ষ, আমার এখানে নাক গলানো ঠিক হবে না, এভাবে দু’বার তিনবার আমি অনুরোধ করা সত্ত্বেও সে আমার ডাকে সাড়া দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না।

তখন আমার মনে পড়ে যে আমায় আত্মরক্ষা করতে হবে, আমার শাস্ত্র আমায় ক্ষমা ক’রে দেবেন, কারণ যদিও আমার ব্রত অহিংসা পালন করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তবু আত্মরক্ষা করবার অধিকার আমার রয়েছে আর তাই আমি ঠিক করি যে আমি আত্মরক্ষা করবো। আমি দুর্বল নই, আমি যা ভিক্ষা পাই তাতে আমার শরীরে যথেষ্ট বল রয়েছে আর তাই আমি এদের সঙ্গে যুঝতে সক্ষম, হয়তো আরো একজনের সঙ্গে পেরে উঠতে পারব আর সেইজন্যে আমি সত্যি সত্যি আত্মরক্ষা করতে শুরু করলাম। আত্মরক্ষার উপায় হ’ল আক্রমণ করা, আর অন্য কোনো উপায় নেই, কখনো কখনো আত্মরক্ষা করবার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে প্রতি-আক্রমণ করা, প্রত্যেক স্বামী সেটাই ক’রে থাকে এবং সেজন্যেই আপনি নিজেকে রক্ষা করছেন এবং আমি কিছু একটা করতে চেষ্টা করছি, সেইসময় সে মাঝে এসে পড়ে, এঁরা সংখ্যালঘু, এঁদের রক্ষা করা হবে।এঁদের বিরুদ্ধে আপনার লড়াই করা উচিত নয়। হায় ভগবান! ওহে! তোমার তো আমাকে রক্ষা করবার কথা। তুমি সরকার চালাচ্ছো, তুমিই রাষ্ট্র, তোমার আমাকে রক্ষা করবার কথা, এরকমটা করবার কথা নয়। তোমায় ফের কেঁচে গণ্ডূষ করতে হবে। তার জন্য যদি সংবিধান সংশোধন করতে হয়, তাও করতে হবে। আমার ধর্ম…

You may also like...

Leave a Reply

%d bloggers like this: