ঋতুস্রাব হ’ল নিজেকে শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া

একটি ধারণা চালু আছে যে অশৌচের সঙ্গে ঋতুস্রাবের সম্পর্ক রয়েছে। তৃতীয়তঃ, তবে এটা এমন বলে না, গল্পটা এই ব’লেই শেষ হয়ে যায় না যে, না না! মহিলারা এখন হয়ে গেছে…অপরাধবোধের রঙে রাঙা হয়েছে তারা, না, এখানেই শেষ হয়ে যায় না। এটা বলে যে, কীভাবে এই ঋতুস্রাব নিজেই একটি শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে এবং এটা একরকম কৃচ্ছ্রসাধনাও বটে, কারণ প্রতি মাসেই তাঁরা এই একই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যান, কাজেই একমাত্র তখনই এটা সম্ভব হবে যখন ঋতুস্রাবের পর তাঁরা সেই অশৌচ অবস্থাটি কাটিয়ে উঠেছেন। যদি কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারটা না থাকত তাহলে এমনটা বলার কী অর্থ যে প্রতি মাসে তাঁরা অশৌচ প্রাপ্ত হন, বারংবার? কাজেই তাঁরা অবশ্যই এটি কাটিয়ে ওঠেন, তাই ঋতুস্রাব নিজেই একটি শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া হিসেবে এটি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে, এই হ’ল নিজেকে শুদ্ধ করবার নীতি, এবং এর মধ্যে বিশ্রাম নেবার ব্যাপারটিতেও জোর দেওয়া হয়েছে, সেলাই-ফোঁড়াই এবং ঝারাই-বাছাই করা বারণ।

এই হল বিভিন্ন সব কার্যাবলী এবং শেষমেশ এটা বলা যায় যে ঘটনা হচ্ছে মহিলারা এই অপরাধবোধ বহন করছেন মাসিক ঋতুচক্রের মাধ্যমে, রক্তপাতের মাধ্যমে অথচ তার বদলে তাঁরা সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হলেন, যা ঐ রক্তপাতের পরে ঘটে থাকে। তাই এখানে দেখা যাচ্ছে যে জীববিজ্ঞানের একটি ঘটনাকে কীভাবে গল্পের আকারে বিবৃত করা হয়েছে, বোঝানো হয়েছে যে ঋতুচক্র ব্যাপারটি প্রজননের সঙ্গে জড়িত, এই ঋতুচক্রটি ছাড়া, এই গোটা মাসিক পর্যায়টি ছাড়া, মহিলারা সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হতেন না। তাই সন্তানের জন্মদান ঋতুচক্রের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, এবং যেহেতু সন্তানের জন্মদান একটি ধার্মিক, পবিত্র এবং অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি প্রক্রিয়া, তাই ঋতুচক্র একটি উদ্‌যাপনের বিষয় হয়ে ওঠে। কাজেই এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অশৌচ, রয়েছে কৃচ্ছ্রসাধনা, রয়েছে বিশ্রাম, রয়েছে নিজের শুদ্ধিকরণ ঘটানো এবং সর্বোপরি রয়েছে উদ্‌যাপন।

You may also like...

Leave a Reply

%d bloggers like this: