মঙ্গলবার, আগস্ট 14, 2018
Home > শ্রুতি এবং স্মৃতিশাস্ত্রের পুঁথিসমূহ > উপনিষদ গ্রন্থাবলী > হিন্দুধর্ম অনুসারে ব্যক্তিত্বের পাঁচটি স্তর

হিন্দুধর্ম অনুসারে ব্যক্তিত্বের পাঁচটি স্তর

আজকের দিনে আমাদের জ্ঞানবুদ্ধির প্রায় সবটা, এমনকী পুরোটাই নির্ভর করে আধুনিক বিজ্ঞানের উপর। আমরা বলি যে আমাদের একটি জড় শরীর রয়েছে, এবং আমাদের মনের যে একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রয়েছে সেকথা অস্বীকার করা হয়। বলা হয় যে মস্তিস্কের কার্যাবলীর কারণেই আমরা চিন্তা করি, তবে আমাদের হিন্দু পরম্পরা ব্যাপারটাকে এভাবে দেখে না।এভাবে আমাদের ঋষিরা, যাঁরা প্রাচীন কালের বৈজ্ঞানিক ছিলেন, তাঁরা এভাবে শরীরকে দেখতেন না, ব্যক্তিত্বকে এভাবে ব্যাখ্যা করতেন না। এমনকী আয়ুর্বেদও এমনটা স্বীকার করে না। আমরা যেটা স্বীকার করি তা হ’ল পাঁচটি কোষ, ব্যক্তিত্বের পাঁচটি স্তর। আমি শুধুমাত্র আমার জড় শরীরটি নই। আমার একটি জীবনদায়ক প্রাণময় শরীরও রয়েছে, আমার মনও রয়েছে, যাকে মানস অথবা মনোময়কোষ বলা হয়, এবং তারপরে রয়েছে বিজ্ঞানময় কোষ এবং আনন্দময় কোষ, চেতনার কোষ, আনন্দের কোষ।

অনুবাদগুলি খুবই, এর মাধ্যমে আসল অর্থ কিছুতেই বোঝা যায় না, তবে আমায় বিশ্বাস করুন, আমাদের নিত্যদিনের জীবনের জন্য যে তিনটি কোষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেগুলি হ’ল – অন্নময় কোষ যা হ’ল জড় শরীর, জীবনদায়ী অথবা প্রাণময় কোষ, শক্তিদায়ী কোষ, যা জীবনীশক্তি যোগায়, যাকে আমরা শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া আখ্যা দিয়ে থাকি, তাই হ’ল প্রাণ। স্রেফ শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া বলার চাইতেও বেশি উপযুক্ত একটি পরিভাষা আমাদের কাছে রয়েছে।আমরা স্রেফ বায়ু নিজেদের শরীরে টেনে নিই না। সে তো মৃতদেহের ভিতরেও বায়ু যেতে পারে, তাই ব’লে তো সেটি বেঁচে ওঠে না, তাই না? তাহলে নিশ্চয়ই সেই বায়ুতে এমন কিছু একটা রয়েছে, সেই বায়ুর আড়ালে এমন কিছু একটা রয়েছে, যা কাউকে জীবিত আর কাউকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করে, তাই তো? এই হ’ল সেই জীবনীশক্তি, তাই হ’ল প্রাণ, ঠিক কী না?

তো, এই গেল প্রাণময় কোষ, আর তারপরে রয়েছে মনোময় কোষ, অর্থাৎ মন, মনন, চিন্তা, এই গোটা প্রক্রিয়াটি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: